‘শকুন তো মরা গরু খায়, আওয়ামীলীগ জীবিতই খেয়ে ফেলছে’!

0
115

আশির দশকের ডাকসুর ভিপি, তুখোড় ছাত্রনেতা, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ছাত্র রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচিত এক নাম। একসময়ের জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মান্না ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দু’বার।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স করে রাজনীতির কারণেই এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নব্বই দশকের শুরুর দিকে যোগ দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। পরে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলে পরিচিত হন সংস্কারপন্থী হিসেবে। ফলে পরবর্তীতে দলে উপেক্ষিত হন এই নেতা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে ‘নাগরিক ঐক্য’ নামে একটি দল গঠন করেন তিনি।

সরকারে সমালোচনা করতে গিয়ে কারাগারেও যেতে হয়েছে তাকে। দল ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তিনি কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের সাথে।

আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কেমন আছে? রাজনীতি কোন পথে মোড় নিচ্ছে?

ক’দিন আগে খুলনায় একটা নির্বাচন হয়ে গেল। সেখানে বয়স্ক এক লোক ভোট দিতে গেছেন। তাকে বলা হলো, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বলেন, আমি তো ভোট দেই নাই। তারা বলেন, না না দেয়া হয়ে গেছে। আপনার বয়স হয়ে গেছে, কষ্ট করতে হবে না এবং আপনার ওয়াইফের ভোটও দেয়া হয়ে গেছে। তখন বৃদ্ধ তার ওয়াইফের উদ্দেশে বলছে- তুমি তিন বছর আগে পরলোকে চলে গেছো, একদিন তো আমার সাথে দেখা করতে আসলা না, তুমি ভোট দিতে চলে আসছ! এ অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র একেবারে শুধু নিহত না, এটা দাফন কাফনের পর্যায়ে চলে আসছে। মানুষের কথা বলার কোনো অধিকারই নেই। নির্বাচন ব্যবস্থা পর্যুদস্ত আর আরেকটা নির্বাচন যেটা সামনে আসছে, সেটাকেও জবরদস্তি কিভাবে নেয়া যায়, এর মহড়া চলছে । মানুষ কেমন আছে? মানুষ অর্থনৈতিকভাবে খারাপ আছে, রাজনৈতিকভাবে খারাপ আছে, গণতন্ত্রের দিক থেকে ভালো নেই। মানুষের ভেতরে আমি একটা কান্না, একটা বিক্ষোভ গুমরে গুমরে মরতে দেখছি । দিস ইস ভেরি ব্যাড। এটা যদি আর কোনো পথ না পেয়ে বিক্ষোভের আকারে রূপ নেয়, সেটা মঙ্গলকর হবে না। আমি সেজন্য সরকারকে বলি- অনেক করেছেন। চার বছর তো অবৈধভাবেই থাকলেন, ইনাফ ইজ ইনাফ। এখন ভালো একটা ইলেকশন দেন দিয়ে চলে যান। আমি জানি এটা তারা শুনবে না, কিন্তু এর পরিণতি যেটা হতে পারে সেটা মানুষের বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

আপনার নাগরিক ঐক্যের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের। কতটুকু সফল আপনারা?

যতখানি প্রত্যাশা ছিল তা হয়নি। ড. কামাল হোসেনসহ আমরা অনেকে যারা পাঁচ বছর আগে নেমেছিলাম এবং মানুষের খুব সমর্থন পেয়েছিলাম। আমরা ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চালালে এতদিনে আমরা এ দুটো দলের পাশাপাশি আরেকটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতাম। সেটা হয়নি। এটা একটা অনেক বড় মাপের ব্যর্থতা। সর্বাংশে ব্যর্থতা বলছি না এজন্য যে তারপরও আমরা তিনটা দল মিলে তো একটা করেছি।

একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কী ধরনের পরিবেশ দরকার?

সরকারি দলের প্রধানের মাথা পরিষ্কার হয়ে গেলেই তা নিশ্চিত হয়ে যাবে। আমরা যতই বলি এসব এসব করলে সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু এক নাম্বার মানুষটি যদি সেটা মনে না করেন, তাহলে কিছুই হবে না। আমাদের দেশের আইন খারাপ ছিল? বিচারব্যবস্থা খারাপ ছিল? কিন্তু এখন কী হয়েছে? আমাদের দেশের আর্মি নিরপেক্ষ, আমাদের পুলিশও যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষ ছিল। এখন কিছু সংস্কার করতে হবে। এই সংস্কারটা হবে কিভাবে? যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতি কমান্ড না করছে, রাজনীতি শুদ্ধ না হচ্ছে, ততক্ষণ সংস্কারটা হচ্ছে না।

এই শুদ্ধতা আনার উপায় কী?

সে রকম একটি দল সে রকম একটি শক্তি ক্ষমতায় আনতে হবে। তারা চেষ্টা করবে। আমাদের দেশে যারা ক্ষমতায় যান, তারা বলেন- আমার এটা তো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, এমন এক বছরের কথা বলে চার বছর থেকে যাওয়া। এইযে একেবারে সরাসরি মিথ্যাচার এটাকে ঘৃণা করতে শিখতে হবে।

সে রকম মানুষকে সে রকম দলকে ক্ষমতায় যেতে হবে, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। এখন যদি মনে করা হয় বিএনপি বা অন্য কোনো দল রাজনীতিকে শুদ্ধ করবে, এটা কোনো বিষয় না। এখনকার ক্রাইসিসে শুদ্ধ রাজনীতি বলতে সরকারের জায়গা থেকে এবং প্রশাসনিক জায়গা থেকে শুদ্ধ রাজনীতি চাই।

যেমনটা আশা করছেন কখনও হবে কী?

আশা করছি হবে তো বটেই এবং কতদিনে হবে সেটা আমি বলতে পারবো না। যেটা আরো আগেও হওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু যারা রাজনীতি করছি তারা রাজনীতিটাকে এই একটা লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়েছেন বলে মনে হয় না। সন্তোষজনকভাবে এটা বলা যাবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতখানি অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা করছেন?

আমাদের দেশে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলতে বোঝায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি আসবে কি না। আমার তো মনে হচ্ছে এবার বিএনপি অংশ নেবে। বিএনপি অংশ নেয়া মানে জাতীয় পার্টি নেয়া, জামায়াতেরও অংশ নেয়া (যদিও জামায়াতের নিবন্ধন নেই)। তবে এটুকুতেই আমি আমার সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারবো না। আমি মনে করি- অংশগ্রহণমূলক মানে শুধু এরকম ব্যাখ্যা যথেষ্ট না। জনগণ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং সে নির্বাচন একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। অংশগ্রহণমূলক মানে এই না যে গিয়ে সিল দিয়ে চলে আসা। জনগণ যাতে বলতে পারে যে এই নির্বাচনে আমার এই আকাঙ্ক্ষা আছে, আমি এরকম দল চাই। ওই অর্থে অংশগ্রহণমূলক হবে না কিন্তু দৃশ্যমানভাবে অংশগ্রহণমূলক হতে পারে ।

আপনার দৃষ্টিতে দেশে এখন কী ধরনের শাসন ব্যবস্থা চালু আছে?

এটা এক ব্যক্তির স্বৈরশাসন। এক ব্যক্তির, এক পরিবারের, এক গোষ্ঠীর, এক দলের স্বৈরশাসন।

আপনাকে এক-এগারোর কুশীলব বলা হতো…

যারা বলতো তারাই কুশীলব ছিল। নিজেদের দোষ অপরের কাঁধে দেয়া। ওয়ান-ইলেভেন কেন হয়েছিল, দুই দলের ঝগড়াঝাটি-মারামারির জন্য। তারা মিলেমিশে থাকলে তো এটা হতো না। দুই দল আগে নিজে স্বীকার করুক যে এটা তাদের দোষ। আমার কথায় আর্মি এসে এটা করবে, অতো পাওয়ারফুল হলে তো আমাকে জেলে নিতে পারে না, অ্যারেস্ট করতে পারে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

ইট উড বি গ্রেট, ইট ওয়াজ নট গ্রেট। প্রথম কথা হলো- এই অভিযোগ স্পষ্ট করে বিরোধী দল থেকে তোলা হয়েছে যে, দুজন মানুষের সন্তুষ্টির জন্য এবং দুজন মানুষের স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে স্যাটেলাইট বিষয়ে। এমন করার কোনো দরকার ছিল না।

যেমন?

না, আমি নাম বলছি না, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনিও বলেননি। কারণ কথাবার্তা বললে এখন এমন হয়েছে যে এটার সত্য-অসত্য বোঝা এবং জনগণকে বোঝানোর চাইতে যিনি বলেছেন তাকে ম্যালাইনড করা যায় কি করে এ কাজটাই করতে থাকে সরকার। এটা তো একটা বাস্তবতা যে এই স্যাটেলাইট বিষয়টা আমরা সারাদেশের মানুষ তেমন বুঝিই না। স্যাটেলাইট বিষয়ে পত্রিকা লিখেছে- এই সার্ভিসটা ঠিকমতো নেয়ার অবস্থা আমাদের নেই।

গ্রাউন্ড কন্ট্রোল করার ক্ষমতা এখনও আমরা অর্জন করিনি। এটা আমার কথা না। স্যাটেলাইটের সার্ভিস পাওয়া যাবে না, প্রপার কাজ করবে না, আমি স্যাটেলাইটের কি বুঝি! আমি শুধু বলেছিলাম যে, ন্যানো টেকনোলজিতে যখন হিলট্র্যাক থেকে ছেলেরা যেটা পাঠিয়েছে, এটা ডেভেলপ করে আমরাই না হয় ৫/৭ বছর পর একটা পাঠাতাম! এক দেশ বানালো, আরেক দেশ পাঠালো, আরেক দেশ ওখানে কন্ট্রোল করলো। আমরা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল করার ক্ষমতা এখনও আমরা অর্জন করিনি, পত্রিকা লিখেছে। মানে দেখাচ্ছে আর কি সমুদ্র জয় করলাম, আকাশ জয় করলাম, মাটি জয় করলাম, মানে আমার মতো বিজয়ী আলেকজান্ডার ছাড়া আর কেউ ছিল না। এটার দরকার ছিল না। তাহলে আমরা এটা করলাম কেন? একটা কথাই বলছি, আমরা আকাশ জয় করে ফেলছি। এখান থেকে আমরা কী কী সার্ভিস পাবো এ নিয়ে বিস্তারিত যদি সরকারও বলতো! অর্থাৎ আমাদের দেশের কি কি উপকার হবে তা যদি বিস্তারিত বলতো, তাহলে ভালো হতো। যদি বলতো আমরা আজ পাবো না ১৫ বছর পর পাবো, তাও ঠিক ছিল।

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে কোনো দ্বিধা আছে?

উন্নয়ন যে হয়নি এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত না। জিডিপি মানে উন্নয়ন নয়। জিডিপি তো গ্রসকে ডিভাইড করা বাই পপুলেশন, ফাইন। সেই অর্থে একটা জিডিপি গ্রোথ বলা যায়। কিন্তু আমি ডেপেলপমেন্ট বলতে এরকম মিন করি না যে আমার নব্বইটা লোক প্রায় অভুক্ত থাকবে আর দশটা লোক মহা ধনী হয়ে যাবে। অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ চরিত্রটা যদি দেখি মানে ইনভেস্টমেন্টের জন্য যে ক্যাপিটাল সে ক্যাপিটাল কে দেয়, একটা ক্যাপিটাল মার্কেট দেয় একটা ব্যাংক দেয়। এখন ক্যাপিটাল মার্কেট ডেসট্রয়েড, লুট করা হয়েছে, লুটতরাজ এবং যারা যারা করেছে তাদের উপরে সরকারের আস্থাভাজন একজন অর্থনীতিবিদ ব্যাংকারকে দিয়ে একটা প্রতিবেদন করেছে, গবেষণা পেপারে তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে।সেটা বাজারেই আসতে দেয়া হয়নি,কোন অ্যাকশনও হয়নি। আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেট সেই যে ডুবেছে এখনও উঠতে পারেনি। আর ব্যাংকে এখন যেটা হচ্ছে– জাস্ট শকুন তো গরু মরে গেলে খায়, আর এরা তো জীবিত থাকতেই খেয়ে ফেলছে। এবং এতো বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আমাদের ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ- অর্থমন্ত্রী বলেছেন। আরেকজন উপদেষ্টা ছিলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, অর্থনীতিবিদ, তিনি নিজে বলেছেন।

এ দুটো জায়গা যদি না থাকে তাহলে কি থাকে! আমাদের এখানে কোনো জবের সুযোগ নেই। দেশে প্রায় ১ কোটির মতো শিক্ষিত যুবক বেকার। এই যে কোটার এতো বড় আন্দোলন হলো তার বেইসটা কী? এমপ্লয়মেন্টের সুযোগ বাংলাদেশে তৈরিই হয়নি। তাহলে কোন জায়গাটা হলো?

কেবলমাত্র কিছু মেগা প্রজেক্ট। এই মেগা প্রজেক্ট সরকারের একটা সাকসেসের ব্যাপার হচ্ছে এরা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ করতে পেরেছে, বাজেট ভলিউম বাড়াতে পেরেছে, মেগা প্রজেক্টগুলো সেটা দিয়ে হচ্ছে। এখন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে এক বছর আগেকার রিপোর্ট অনুযায়ী বেড়েছে ৭৭% জীবনযাত্রার ব্যয়। কোনো যুক্তি ছাড়া এই রোজায় সমস্ত জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তা সে সার্ভিস সেক্টরে হোক কিংবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে হোক, বাজারে গেলেই সব কিছুর চড়া দাম। মানুষের ইনকাম কি বেড়েছে? একটাই কথা যে আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে চলে গেছি। একটা লোকের ইনকাম বাড়ল দশ টাকা আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তার খরচ বাড়ল বিশ টাকা, তাহলে তো তার ইনকাম দশ টাকা কমলো। ফলে মানুষের মুখে কোনো হাসি নেই কিন্তু চাকচিক্যর শেষ নেই।

যারা লুট করেছে এই লোকগুলো মেগা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে-দেখাচ্ছে । সেটার অর্থাৎ মেগা প্রজেক্টের একটা হচ্ছে ফ্লাইওভার। যেমন মৌচাক ফ্লাইওভার, যেখানে কি না মাঝখানে একটা ট্র্যাফিক সিগনাল দিয়ে রেখেছে যা পৃথিবীর কোথাও নেই। ওই ফ্লাইওভারে এক্সিডেন্টও হয়েছে। তো এটা কি হলো! দুই বছরের প্রজেক্ট চার বছরে শেষ করল তারা। এসব মেগায় ২০ কোটি, ২০০ কোটি, হাজার কোটি টাকার উপরে খেয়ে ফেলছে, ওইগুলোর ব্যাপারে তাদের খবর নেই অথচ বেগম জিয়ার ২ কোটি টাকার জন্য এই অবস্থা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্ট থেকে চুরি হয়ে যাওয়া কয়েক লাখ কোটি টাকা, এজন্য কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই আমাদের। দুটো মেইন জিনিশ- ক্যাপিটাল মার্কেট হলো মেইন যেখানে ক্রাশ করেছে সেখানে উন্নতির আশা কিভাবে! আমি কি বললেই হলো !

উৎসঃ poriborton

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here