খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে আদালতের নির্দেশ

0
176
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার বেলা ১১ দিকে সংশিষ্ট আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান কারা কর্তৃপক্ষকে এই আদেশ দেন। এর আগে সাড়ে ১০টার দিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে একই আদালতে খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন দাখিল করে সিনিয়র আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

এব্যাপরে সিনিয়র আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘জেলকোডের ৬১৭ ধারা অনুযায়ী জেল সুপারেরই এই আবেদন করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। পরে আমাদেরকে এ ব্যাপারে আবেদন করতে হয়েছে।’

এদিকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৭২ বছর বয়সী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারান্তরীণ রেখে ও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সরকার তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অমানবিক আচরণ করছে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি তো ৭৩৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। তার সার্বক্ষণিক পরিচারিকা হিসেবে যিনি জেল কোডের মধ্যে রয়েছে তাকেও বেগম জিয়ার সঙ্গে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এর চেয়ে অমানবিক আর কিছু হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রীর ক্ষেত্রে ডিভিশন দিতে কোনও অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে তারা ডিভিশন পাবেন। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনও ডিভিশন পাচ্ছেন না।’

কারা সূত্র জানায়, কারাগারে খালেদা জিয়াকে কীভাবে রাখা হবে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপকারাধ্যক্ষ শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি নারী কারারক্ষী দল এবং উপকারাধ্যক্ষ আশরাফ উদ্দীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের আরেকটি দল গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা প্রশাসন ১৫ দিন ধরেই নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারের ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ ঘষেমেজে পরিষ্কার করে। ডিভিশনের আদেশ পাওয়ার পরই তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে গত বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে কারা প্রশাসন।

‘জেলখানায় খালেদাকে যেভাবে রাখা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না’

কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া দলীয় নেতাদের বলেছেন, যেভাবে তাকে জেলখানায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

ফাইল ফটো

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ সহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং আইনজীবী শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে ফিরে মওদুদ আহমেদ বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।

বিবিসির মাসুদ হাসান খান তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, জেলখানায় খালেদা জিয়াকে তারা কেমন দেখেছেন।

জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘তার মনোবল খুব শক্ত আছে। কিন্তু তিনি সেখানে আছেন একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে। কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা নাই। তিনি আছেন একটা সলিটারি কনফাইনমেন্টে, নির্জন কারাগারে। কোন জনমানব কেউ নেই। যেন একটা পরিত্যক্ত বাড়ি।’

গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে থাকতে না দেয়ার কারণেই খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় আছেন বলে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘উনার তো ৭২ বছর বয়স। অনেক শারীরিক সমস্যা আছে। উনার দুটি হাঁটুই রিপ্লেস করা। হাঁটতে অসুবিধা হয়। ফাতেমা বলে তার যে গৃহসেবিকা, তিনি গত বিশ বছর ধরে তার দেখাশোনা করতেন। উনি বললেন, এর চেয়ে বেশি কষ্টকর আমার জন্য আর কিছু নয়। ফাতেমাকে তারা আমার সঙ্গে থাকতে দিল না। তাকে জেলগেট থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’

খালেদা জিয়াকে এখনো পর্যন্ত রাজবন্দীর মর্যাদা দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘২০০৬ সালের সংশোধিত জেল কোডে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে কারা কারা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবে। অথচ উনাকে কোন ডিভিশন দেয়া হয়নি। উনি সাধারণ কয়েদি হিসেবে আছেন।’

তিনি বলেন, জেলকোডে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, যে দলের প্রতিনিধিত্ব পার্লামেন্টে আছে, বা এমপি, এরা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবেন।

‘আমি নিজেই তো এই সরকারের আমলে দুবার জেলে গেছি। আমাদের ডিভিশন পাওয়ার জন্য তো কোন আদালতের অর্ডার লাগেনি। কারণ আইনের মধ্যেই আছে আমি সেটা পাব। অথচ বেগম জিয়াকে আজ তিনদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কোন ভিডিশনাল ফ্যাসিলিটি দেয়া হয়নি।’

সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জন্য সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তাকেও মিথ্যে বলে জানান মওদুদ আহমেদ।

‘খবরের কাগজে লিখেছে এসি দিয়েছে। মোটেই এসি দেয়নি। এটা একেবারে মিথ্যে কথা। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাইরে বলা হচ্ছে আপনাকে সব সুযোগ সুবিধা দিয়েছে, ফাতেমাকে দিয়েছে। উনি সম্পূর্ণভাবে ডিনাই করেছেন। সেখানে জেলের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই উনি এসব কথা বলেছেন।’

বিএনপি নেতাদের এই দলটি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মূলত তার আপিল আবেদনের ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে। এ নিয়ে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে তারা কথা বলেছেন।

‘আমরা ভেবেছিলাম বৃহস্পতিবারই আমরা রায়ের সত্যায়িত কপি পাব। আপিল করার আগে সেটা দরকার। জাজমেন্টের কপি ছাড়া কোন আপিল ফাইল করা যায়না। যদি আগামিকাল রোববার আমরা এটা পাই, তাহলে সোমবার বা মঙ্গলবার আমরা এটা ফাইল করবো। সাথে সাথে তার জামিনের আবেদনও আমরা করবো।’

মওদুদ আহমেদ বলেন, জেলখানায় এই সাক্ষাতের সময় তাদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। তবে দল কীভাবে চালাতে হবে সেই নির্দেশনা তিনি আগেই দিয়ে গেছেন।

ভিডিওঃ অতি জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে খালেদা জিয়ার

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে ▷ বাটনে ক্লিক করুন বা ভিডিওর টাইটেলে ক্লিক করুন]

‘আমাদের গঠনতন্ত্রেই আছে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান, তারেক রহমান উনিই দায়িত্বে থাকবেন। তিনি আমাদের বলেছেন, সুশৃঙ্খল থাকতে, কোন হঠকারিতা না করার জন্য এবং সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণভাবে হয়। এই ব্যাপারে যেন আমরা বাড়াবাড়ি কিছু না করি। যাতে করে দেশের মানুষ বোঝে যে আমরা সংযম দেখিয়েছি।’

মওদুদ আহমেদ বলেন, দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মেনে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here