‘খালেদা জিয়ার ডিভিশন প্রাপ্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই’

0
222

বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ডিভিশনে পাঠানোর নির্দেশের কপি আদালত থেকে কারাগারে কর্তৃপক্ষের হাতে পৌছেঁ দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

রোববার দুপুরে নির্দেশের কপি আদালত থেকে জেলগেটে নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিকেলে নির্দেশনার কপি কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছেঁ দেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা।

এর আগে, আদালতের এ আদেশের পর রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

এ সময় তিনি জানান, রায়ের কপি এখনও হাতে আসেনি। তাই খালেদা জিয়াকে সাধারণ বন্দির মতো রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারাগার থেকেই খালেদা জিয়াকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুষ্ক খাবার তাকে দেয়া হলেও বাইরের অন্য কোনো খাবার তাকে দেয়া যাবে না।

খালেদা জিয়ার জন্য ব্যক্তিগত কোনো সেবিকা রাখা না হলেও চিকিৎসার জন্য একজন নার্স রাখা হয়েছে বলে জানান আইজি প্রিজন্স।

খালেদা জিয়ার ডিভিশনের বিষয়ে আইজি প্রিজন্স উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের ডিভিশন পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডিভিশন পাওয়ার বিষয়টি জেলকোডের কোথাও উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

এর আগে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার রায়ের সময় কোর্ট থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন এসব কথা জানান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া জেলকোড অনুসারে সাধারণ কারাবন্দির মতোই আছেন বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

উৎসঃ আরটিএনএন

খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে আদালতের নির্দেশ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার বেলা ১১ দিকে সংশিষ্ট আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান কারা কর্তৃপক্ষকে এই আদেশ দেন। এর আগে সাড়ে ১০টার দিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে একই আদালতে খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন দাখিল করে সিনিয়র আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

এব্যাপরে সিনিয়র আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘জেলকোডের ৬১৭ ধারা অনুযায়ী জেল সুপারেরই এই আবেদন করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। পরে আমাদেরকে এ ব্যাপারে আবেদন করতে হয়েছে।’

এদিকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৭২ বছর বয়সী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারান্তরীণ রেখে ও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সরকার তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অমানবিক আচরণ করছে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি তো ৭৩৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। তার সার্বক্ষণিক পরিচারিকা হিসেবে যিনি জেল কোডের মধ্যে রয়েছে তাকেও বেগম জিয়ার সঙ্গে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এর চেয়ে অমানবিক আর কিছু হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রীর ক্ষেত্রে ডিভিশন দিতে কোনও অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে তারা ডিভিশন পাবেন। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনও ডিভিশন পাচ্ছেন না।’

ভিডিওঃ অতি জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে খালেদা জিয়ার

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে ▷ বাটনে ক্লিক করুন বা ভিডিওর টাইটেলে ক্লিক করুন]

কারা সূত্র জানায়, কারাগারে খালেদা জিয়াকে কীভাবে রাখা হবে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপকারাধ্যক্ষ শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি নারী কারারক্ষী দল এবং উপকারাধ্যক্ষ আশরাফ উদ্দীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের আরেকটি দল গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা প্রশাসন ১৫ দিন ধরেই নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারের ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ ঘষেমেজে পরিষ্কার করে। ডিভিশনের আদেশ পাওয়ার পরই তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে গত বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে কারা প্রশাসন।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here