জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে এবার নির্বাচন করবেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এর ফলে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ভোটের হিসাব অনেকটাই পাল্টে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলে নিজের জনপ্রিয়তার কারণে ভোট পাওয়ার পাশাপাশি বিএনপির ভোটও এবার কাদের সিদ্দিকীর হিসাবেই জমা হবে বলে ধারণা রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছু ভোটও তিনি পেতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

স্থানীয়রা জানান, বাসাইল-সখীপুর আসনটি বঙ্গবীরের আসন হিসেবেই খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি হিসেবে খ্যাত কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম একবার আওয়ামী লীগের টিকেটে এবং অন্যবার নিজের প্রতিষ্ঠিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।তার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, ‘সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবীরকে ভালোবাসেন। এই আসনটি বঙ্গবীরের ভোট ব্যাংক। এবার তিনি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার কারণে বিএনপির সব ভোট তিনিই পাবেন। বঙ্গবীরকে এবার ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।’এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়। তিনি তার পিতা শওকত মোমেন শাহজাহানের ইন্তেকালের পর উপ-নির্বাচনে দেশের কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রাখতেই বর্তমান সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের), বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদসহ ১১ জন মনোনয়ন কিনেছেন ভোট যুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য।তবে এবার নৌকার টিকেটধারী নেতা ভোট যুদ্ধে বঙ্গবীরের সঙ্গে পারবেন কিনা এ আলোচনা এখন স্থানীয় ভোটারদের মুখে মুখে।কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতিক বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতেই বঙ্গবীর নির্বাচন করবেন।

এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এই আসনে সংসদ সদস্য থাকাকালে দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন হয়নি। তার জন্য ৫০ শয্যার বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। ফলে স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাসাইল-সখীপুরের মানুষ। এই আসনে সাধারণ মানুষের তেমনটা ভোট পাবেন না। এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

সুত্রঃ banglatribune

আরও পড়ুনঃ ইয়াবা খেয়ে ধরা পড়েও মুক্ত মহিলা আওয়ামীলীগের এমপিপুত্র রুমন


আবারও মায়ের ক্ষমতা জোরে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছেন মাদকসেবী রাশেদ সরোয়ার রুমন। সংরক্ষিত নারী আসনের সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য রিফাত আমিনের ছেলে রুমন ইয়াবা খাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। কিন্তু মায়ের প্রভাবে তিনি ছাড়া পেলেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সহযোগী নিয়ে শহরতলির নবাদকাটির মিঠু খানের বাগানবাড়ি বসে রুমন ইয়াবা খেয়ে ফুর্তি করার সময় ধরা পড়েন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ রুমনকে বেসামাল অবস্থায় আটক করে।

মাদকাসক্ত পাঁচ যুবকসহ তাকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সংসদ সদস্য রিফাত আমিনের সুপারিশে গভীর রাতে পুলিশ রুমন ও তার সহযোগীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে পুলিশ বলেছে, রুমনকে গ্রেফতার করার মতো আইনগত ভিত্তি ছিল না।

জানা গেছে, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন থাকার পর রুমন দেশে ফিরে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালের পর তার দাপট আরও বেড়ে যায়। ২০১৬ সালের ১৯ মে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ি চালিয়ে রুমন শ্যামনগরের বরসা রিসোর্টে যান।

সেখানে রাতে তিন তরুণীকে নিয়ে তিনি বেসামাল হয়ে পড়েন। এজন্য তাকে কয়েকদিনের জন্য কারাবাস ভোগ করতে হয়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছে রুমন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরে তাকে ভোমরায় নিয়ে তিনি ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। একই বছরের ৭ জুলাই সহযোগী গোল্ড মিলনের সঙ্গে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী সাহেব আলিকে মারধর ও জিম্মি করে রুমন নগদ টাকা ও চেক কেড়ে নেয়।

১৩ আগস্ট রুমন তার মাদকাসক্ত স্ত্রী টুম্পাকে এক যুবকের পাশে বসিয়ে ছবি তুলে ব্ল্যাক মেইলিং করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর জেলা যুবলীগ নেতা জুলফিকার আলি উজ্জ্বলকে রুমন রড দিয়ে মারধর করে আহত করে। সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর রাতে ইয়াবা সেবন অবস্থায় ধরা খেয়েও মায়ের ক্ষমতার জোরে বেরিয়ে গেলেন রুমন।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ গ্রেপ্তার হওয়া ৫২৯ নেতাকর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে বিএনপি


প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের দলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে – যার মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতাও রয়েছেন ।

আটককৃত ৫২৯ জনের একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে দিয়ে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে সারাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। খবর বিবিসির।

পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা এখন তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।’

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তর করা হচ্ছে না।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দু’দিন আগে ৬ই নভেম্বর ঢাকায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশ করেছিল।

সেই সমাবেশ শেষে গ্রেপ্তার হন টাঙ্গাইল-৭ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তিনি এবারও ঐ আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তার স্ত্রী ফাতেমা আজাদ বলছিলেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে পুরোনো কোন মামলা না থাকলেও তাকে এখন ঢাকার পল্টন থানায় একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, তফসিল ঘোষণার পর গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তাদের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোট পাঁচজন নেতা রয়েছেন।

তাদের মধ্যে ঢাকায় দলীয় মনোনয়নের আবেদন নিতে এসে গ্রেপ্তার হওয়া বাগেরহাটের বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন এবং নেত্রকোনার আনোয়ারুল হকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে – তার কারণ তারা জানতে পারেননি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তফসিলের পর থেকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া তাদের দলের ৫২৯ জন নেতা কর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছেন। এর আগেও বিএনপি দুই দফায় তাদের দলের গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে।

পুলিশ প্রশাসন নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন কেন?

বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ‘পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন।’

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব এবং উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিএনপি তাদের এ অভিযোগ নির্বাচন কমিশনেও জানিয়েছে।

এমন অভিযোগের ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের যুক্তি হচ্ছে, কোন মামলা না থাকলেও বিএনপি নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তারের পরই ‘গায়েবী মামলা’ দেয়া হচ্ছে।অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছরের পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের সংলাপে এখন আর কোন মামলা না করা এবং রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার আশ্বাস তারা পেয়েছিলেন।

কিন্তু এরপরও গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকার ঘটনার পিছনে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতিত্ব রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখছে, এ নিয়েও বিএনপি নেতাদের সন্দেহ রয়েছে।

সরকার কি বলছে?

পুলিশের উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, বিএনপিসহ বিরোধী জোট রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে নানান ধরণের বক্তব্য দিচ্ছে।

মন্ত্রী দাবি করেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

একজন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছিলেন, গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বিএনপির অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবে।

তিনি জানান, সেই বৈঠকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয়া হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ভোটকেন্দ্র ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়া, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং ভোটের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচন: পুলিশ কথা না শুনলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে?


পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে এই বৈঠকে।

বৈঠকটি এমন সময় হচ্ছে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্রমাগত অভিযোগ করে চলেছে যে, শিডিউল ঘোষণার পরও বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেতা কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তফসিলের পর থেকে এপর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া তাদের দলের ৫২৯ জন নেতা কর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছেন।

এর আগেও বিএনপি দুই দফায় তাদের দলের গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, ‘পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন।’

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কাছে দাবি করেছেন যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকেই আটক করা হচ্ছেনা।

এ পটভূমিতে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের প্রাক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়ার থাকলে সেটিই আজ কর্মকর্তাদের দেবেন তারা।

‘যেহেতু এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে তাই নির্বাচন বা রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে যেনো কোনো দলের নেতাকর্মী হয়রানির শিকার না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকা। যদিও আইন শৃঙ্খলাকে অস্থিতিশীল করতেও হয়তো কেউ তৎপর থাকবে-সেটিও সহনশীলতার সাথে দেখা’।

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী সমর্থক বা নেতাদের রাজনীতি সম্পর্কিত কোন তৎপরতার জন্য ধরপাকড় যেনো না হয় সে ব্যাপারে তাদের বলা হবে।’

বিএনপি ধরপাকড়ের যেসব অভিযোগ করেছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি তালিকা দেখেছি যেখানে ২০১৩-১৫ সালে আটক যারা হয়েছেন তাদের মামলার তালিকা।

‘তফসিল ঘোষণার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা দেয়ার জন্য আমরাই বলেছি। তেমন থাকলে আমরা খতিয়ে দেখবো। রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রেপ্তার হলে সেক্ষেত্রে আমাদের নির্দেশনা সেভাবে থাকবে’।

পুলিশ কথা না শুনলে কমিশন কী করতে পারে?

নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলছেন এ বিষয়ে একটি আইন রয়েছে।

‘তফসিল ঘোষণা থেকে চূড়ান্ত রেজাল্ট এবং সেটা গেজেট হওয়া পর্যন্ত যে নির্বাচন কালীন সময় আছে এটুকু সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কমিশন নিতে পারে’।

কর্মকর্তারা বলছেন আইনানুগ ব্যবস্থা বলতে পুলিশ যদি নির্দেশনা না মানে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরণের ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

তবে যেহেতু একটি দলীয় সরকার ক্ষমতায় আছে এবং পুলিশ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা কতটুকু কার্যকর হয় সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলছেন একমাত্র এ ধরণের পরিস্থিতি উদ্ভব হলেই দেখা যাবে যে কমিশনের নিদের্শনা কার্যকর হয় কি-না ঠিকমতো।

আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে অগ্রাধিকার কি কি

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছেন নির্বাচনের একটা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ যেনো থাকে এটিই কমিশনের চাওয়া।

‘এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রার্থীরা যেনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সারা পৃথিবীতেই আছে। আমরা তেমন আশংকা না করলেও উড়িয়ে তো দেয়া যায়না’।

তিনি বলেন তারা চান নির্বাচনের পরিবেশ যেনো সুষ্ঠু থাকে। প্রার্থীরা যেনো সমান সুযোগ পায় ও ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। আর নির্বাচনের পরেও যেনো কোনো সহিংসতা না হয়।

সুত্রঃ বিবিসি খবর

আরও পড়ুনঃ দাদা সালমান রহমান বাবা নাজমুল হুদাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে ধানের শীষে অন্তরা হুদা


প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী ঘাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ.রহমান। তারই ভাতিজা সাবেক বিএনপি নেতা ব্যরিস্ট্রার নাজমুল হুদা আর নাজমুল হুদার বড় মেয়ে অন্তরা হুদা। পারিবারিকভাবে তারা অনেকটা একই পরিবারেরই অংশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হবার লক্ষ্য নিয়ে একই পরিবারের তিনজনই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তবে পার্থক্য হচ্ছে, সালমান এফ রহমান ও তার ভাতিজা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন আর হুদা কন্যা অন্তরা হুদা চেয়েছেন বিএনপির ধানের শীষে মনোনয়ন। আবার সালমান এফ রহমান ও অন্তরা হুদা ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পত্র নিলেও তাদের আসন একই। দুজনেই ঢাকা-১ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন নিজ নিজ দলের কাছ থেকে।

অন্যদিকে নাজমুল হুদা নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে। অবশ্য তিনিও বলছেন, তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন না দেয়া হলে তিনিও ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র বিক্রির প্রথম দিনই ঢাকা-১ আসনের জন্য সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন তার ঘনিষ্টজন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন। একই দিন ব্যরিস্ট্রার নাজমুল হুদার পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তারই ঘনিষ্ঠজন আক্কাস আলী খান। এছাড়া গতবুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নাজমুল হুদার বড় মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দোহার থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন। নাজমুল হুদা আওয়ামী লীগ ও মেয়ে অন্তরা হুদা বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করায় বিষয়টি রাজনৈতিকমহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

তবে অন্তরা হুদার পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা দোহার থানা যুবদলের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন যুক্তি দেখিয়ে বলেন, বাবা নাজমুল হুদা দল পরিবর্তন করলেও তার মেয়ে বিএনপিতেই আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে তিনি সক্রিয়। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ এরশাদের জায়গায় বি চৌধুরী

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বি. চৌধুরী – ছবি : সংগ্রহ

আলফাজ আনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের রাজনীতিতে নানা ধরনের মেরুকরণ ঘটছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সমবেত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অপর দিকে, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে হালুয়া-রুটির ভাগীদার অনেক নেতা আওয়ামী লীগের মহাজোটে যোগ দিচ্ছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এ ধরনের আরো অনেক চমক আসবে।

মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টি কোন পথে যাবে, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে এক ধরনের টেনশন আছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হঠাৎ করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি রহস্যজনকভাবে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তার সাথে দেখা করে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। সুজাতার সাথে বৈঠকের পর সে কথা এরশাদ নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে। কিন্তু তিনি নির্বাচন বর্জনের অবস্থানে অনড় থাকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তার কথিত অসুস্থতায় ‘উদ্বিগ্ন’ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি করান।

তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর হাসপাতাল থেকে সরাসরি এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব নেন। এবারো নির্বাচনের আগে এরশাদ যখন অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন তখন নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতাল থেকে তিনি কোথায় ছিলেন কেউ জানেন না। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার নিশ্চিত করেছেন, তারা মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করবেন। আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে একটি বৈঠক হলেও ফলাফল জানা যায়নি। জাতীয় পার্টি ১০০ আসনের আবদার করেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল পাত্তাই দিচ্ছে না। এ নিয়ে দু’দলের টানাপড়েন কাটছে না। হাসপাতাল থেকে তিনি মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসে বলেন, এখনো আমি মুক্ত নই। এরশাদের মুক্তি সহজে মিলবে না বরং চাপ আরো বাড়বে।

এরশাদকে নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী মহাজোটে যোগ দেয়া কিংবা সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরশাদের পরিবর্তে এখন বি. চৌধুরীকে কাছে টানতে চায় ক্ষমতাসীন দল। যদি কোনো কারণে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বি. চৌধুরী বিরোধী দলের নেতা হলে তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, এমন ধারণা ক্ষমতাসীন দলের রয়েছে। তবে ভোটের রাজনীতিতে তিনি বা তার পুত্রের অবস্থান খুবই দুর্বল। মহাজোটের কাছ থেকে পাঁচটি আসন প্রার্থী পাওয়ার প্রস্তাব দেয়াও দুরূহ হবে। মোট কথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে দুই প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা হঠাৎ বি. চৌধুরীর সাথে বৈঠকের পর এমন গুজব আরো জোরদার হচ্ছে যে, এরশাদের জায়গাটি বি. চৌধুরী নিতে যাচ্ছেন। তার সাথে বিএনপির এক সময়ের পররাষ্ট্রনীতির কাণ্ডারি শমসের মবিন চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপির পক্ষে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনি সম্প্রতি বি. চৌধুরীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক সময় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বহু আলোচনা ও দেনদরবার হয়েছে। বি. চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি বি. চৌধুরী অস্থিরচিত্তের রাজনীতি আর পেছনে নানা সুতোর টানে কোথাও স্থির হতে পারছেন না। বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ দু’জনই বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে একসাথে জোট গঠন করেছিলেন। কিন্তু তারা একসাথে কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অলি আহমেদ তার দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি নিয়ে সে জোট থেকে বেরিয়ে যান। অলি আহমেদ এখন ২০ দলীয় জোটে আছেন।

অপর দিকে বি. চৌধুরী প্লান ‘বি’ নিয়ে মহাজোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বা তাদের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ঐক্যফ্রন্টে গেলে তিনি যে প্লান ‘এ’ বাস্তবায়নে তৎপর থাকতেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। এর অংশ হিসেবে খুচরা দলগুলোর জোট গঠনের আগে তিনি ১৫০ আসন তাকে দেয়ার দাবি তুলেছিলেন। এরপর তিনি দাবি করেন, বিএনপি কথিত স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না। অর্থাৎ ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে হবে।

বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তি আবার বিএনপির রাজনীতির নির্ধারক হওয়ার দাবি তুলেছিলেন। এটাই হয়তো ছিল বি. চৌধুরীর প্লান ‘এ’। স্বাভাবিকভাবে, বিএনপি তাকে শুরু থেকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছিল। এই সন্দেহ যে অমূলক নয়, বি. চৌধুরীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। বি. চৌধুরী নানা বিতর্ক সৃষ্টি করে বিএনপিকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছিলেন। মূলত ক্ষমতাসীন দলের ‘বি’ টিম হিসেবে তিনি ঐক্যফ্রন্টে আসতে চেয়েছিলেন। এখন তিনি মহাজোটে যোগ দিয়ে বা সমঝোতা করে বিএনপির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ কৌশলকে তার প্লান ‘বি’ বলা যায়। বিএনপির ওপর তার ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার প্রকাশ।

বি. চৌধুরী ও মাহি বি. চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ড. কামাল হোসেন পরোক্ষভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে জোট গঠন করেছেন। তারা বোঝাতে চাইছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি আছে। আবার বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটে জামায়াত আছে। তাহলে কামাল হোসেন স্বাধীনতাবিরোধী।’

অনেকটা এমন যুক্তি- গরু ঘাস খায়, সেই ঘাস খেয়ে গরু দুধ দেয়, দুধ মানুষ খায়; অতএব, মানুষও গরু। এমন যুক্তিতে বি. চৌধুরীকে অনেকে ‘জামায়াতি’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। বিএনপির এ প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি- এই দুই মন্ত্রীর সাথে তখন তিনি শপথ নিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে একসাথে যোগ দিতেন। তখন তিনি কথিত স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যাপারে টুঁ-শব্দটি করেননি। হঠাৎ এখন তিনি জামায়াতবিরোধী রাজনৈতিক কার্ড খেলতে চাইছেন। কিন্তু এই কার্ড এত বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যে, তাতে কোনো সাফল্য আসার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে এতটাই মেরুকরণ হয়েছে, জামায়াতবিরোধিতা নির্বাচনী রাজনীতির কোনো ইস্যু হিসেবে দাঁড়াবে না। অনেকে মনে করেন, পুত্রস্নেহ বি. চৌধুরীকে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা তার অতীত রাজনৈতিক চরিত্রের সাথে মানানসই নয়।

যা-ই হোক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন জোট বি. চৌধুরীকে দিয়ে আরেকটি ফ্রন্ট খুলতে চাইছে। কিন্তু তাতে কতটা সফলতা আসবে, তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ আছে। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় সরকার এই জোটকে আমলে না নিলেও এখন এটাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট এত শক্তিশালী রূপ পাবে, তা ক্ষমতাসীন দল অনুমান করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এখন ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে বড় চমক ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তনয় ড. রেজা কিবরিয়ার গণফোরামে যোগদান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেছেন, যে আদর্শের জন্য আমার বাবা লড়াই করেছেন, আওয়ামী লীগ সেটা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগদানের সময় তিনি মনে করিয়ে দেন, তার বাবা সরকারি কর্মচারী ছিলেন; বাংলাদেশের সেবা করেছেন। তার বক্তব্য- ‘উনি বঙ্গবন্ধুর অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৈরি করেছিলেন, বাবা পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।

উনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় সার্কের আঞ্চলিক পজিশন পেপার তৈরি করেছিলেন। উনি দেশকে সেবা করেছেন। কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী বা দলের প্রতি কিছু আনুগত্য উনার থাকতে পারে।’ রেজা কিবরিয়া তার বাবার হত্যার বিচার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পর দুই বছর বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তারা কিছু করতে পারেনি। দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তারাও করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল, তারা এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত পর্যন্ত করতে পারেনি। কার ওপরে আমার বেশি অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত? দুই বছর নাকি সাড়ে ৯ বছর যারা কিছু করেননি তাদের ওপর?’ রেজা কিবরিয়া এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির ব্যর্থতার দিক তুলে ধরেছেন।

রেজা কিবরিয়ার মতো আরো অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আসার পর ড. কামাল হোসেন এই প্রথম একটি বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক জাঁদরেল নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, মোস্তফা মহসিন মন্টুর সাথে রেজা কিবরিয়ার মতো তরুণেরা যোগ দিলে সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগের বিকল্প একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়াতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাবেক সেনাকর্মকর্তা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে ড. কামাল হোসেনের এটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আসলে দেশে এক ধরনের জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ক্ষেত্রে বিএনপি সত্যিকার অর্থে, প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি আসন ভাগাভাগি নিয়েও বড় ধরনের সঙ্কট হবে না, এমন কথা বলছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকাও ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। বিএনপির পর ২০ দলীয় জোটের প্রধান শক্তি হলো জামায়াত। বিএনপি যখন ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে, তাতে জামায়াত বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকবে না, সেখানে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। তিনি বলছেন, ‘একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয়, তাহলে সবাইকে বড় মনের পরিচয় দিতে হবে।’ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় মনের পরিচয় দেয়াই এখন বেশি জরুরি।
alfazanambd@yahoo.com
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন বয়কট নয়, কঠিন পরিকল্পনা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের


দলীয়ভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরসাক্ষাৎকার শেষ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য দলগুলোও। ইতিমধ্যে বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ১৯টি দল তাদের চাহিদা অনুযায়ী আসনের তালিকা বিএনপিকে দিয়েছে। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। দু-একদিনের মধ্যেই তারা এসব নিয়ে বিএনপির সঙ্গে বসবে।

জানা গেছে, সবাই দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য খুব সহজেই তাদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা হবে। এনিয়ে কোনো প্রকার সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন না দুই জোটের নেতারা। এখন তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাঠে নামার।

দুই জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তাদের পরিকল্পনা একেবারে ভিন্ন। নির্বাচন বয়কট করার মতো কোনো চিন্তাই তাদের নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবার তারা নির্বাচনী মাঠে থাকবে।

ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা মনে করছিলেন যে ৭ দফা দাবি না মানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেবে না। এসুযোগে তারা আবারো এরশাদসহ বি চৌধুরীকে বিরোধী দলে রেখে আরেকটি নির্বাচন করে তারা পুনরায় ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু আমরা এবার আর আওয়ামী লীগকে সহজে ছাড় দেবো না। দাবি করতে গিয়ে আন্দোলন করেও সব শক্তি ক্ষয় করবো না। আর নির্বাচন থেকেও সরে আসবো না।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ইতিমধ্যেই দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সবাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আছে। তারপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনী মাঠে থাকবে। জনগণও আমাদের সঙ্গেই আছে। ডাক দিলেই মাঠে নেমে আসবে। আওয়ামী লীগ চাইলেও এবার আগের মতো ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের একজন শীর্ষ নেতা জানান, এবার আর আমরা নির্বাচন বয়কট করবো না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে যে শক্তি আমরা ক্ষয় করেছিলাম এবার তা করা হবে নির্বাচনে। প্রতীক বরাদ্দের পরই ২০ দলের নেতাকর্মীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। আমরা আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী মাঠ আমাদের অনুকূলে চলে আসবে। আর পুলিশ দিয়ে সরকার যতই হয়রানি করার চেষ্টা করুক, ২০ দলের নেতাকর্মীরা এবার মাঠ ছাড়বে না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট ছিনতাইসহ ভোট ডাকাতি ঠেকাতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এবার আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডু অর ডাই।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here