আগে নিজেরা ইভিএম ব্যবহার শিখুন। তারপর জনগণকে শেখানঃ ইসিকে ঐক্যফ্রন্ট

0
104

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আগামী শনিবার এ সংক্রান্ত এক সভায় কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, সংসদ নির্বাচনে তারা কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করবে। তবে তার আগে ভোটে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে আবার ইসির সমালোচনা করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

তাদের দাবি, ইসি নিজে আগে ইভিএম ব্যবহার শিখুক। তারপর জনগণকে শেখানো হোক। ইসি নিজেই ইভিএম চালাতে জানেনা।

ইভিএম সম্পর্কে ইসির সুস্পষ্ট ধারণা নেই দাবি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ইসির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আগে নিজেরা ইভিএম চালানো শিখুন, পরে অন্যকে শেখান।’

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘ইভিএমকে না বলুন আপনার ভোট সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ইভিএম যারা এনেছে তারাও এর ব্যবহার ঠিকমতো জানে না, যারা ভোট দেবে তারা কখনো ইভিএম দেখেইনি। একজন নাগরিকের ইচ্ছেমতো, পছন্দমতো ভোট দেয়ার অধিকার আছে। কিন্তু যে যন্ত্র জনগণ কখনো দেখেনি সেটা স্পর্শ করলে যে ভোট হবে এটা তারা বিশ্বাস করতে পারে না।’

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) বর্তমান সরকারের আজ্ঞাবহ। জনগণের কাছে তাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই। সব অপশক্তি অবলম্বন করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায় এ সরকার। আমরা ১০ বছর ধরে এ সরকার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমাদের হাজার হাজার নেতা আজ কারাগারে। আমরা যখন নির্বাচনে যেতে চাচ্ছি তখনও আমাদের এসব নেতা কারাগারে আছেন। পদে পদে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের জন্য জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশে গায়েবি মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন চলছেই। এসব কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্য আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। আমরা এমন নির্বাচন চাই, যে নির্বাচন প্রশ্নবৃদ্ধ হতে পারে না। আমাদের নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আমরা নিরাপদ ভোট কেন্দ্র চাই।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের হাওয়া বদলে গেছে, সুতরাং যে যাই করুক না কেন জনগণকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বিবেকের কাছে দায়ী হবে, খোদার কাছে দায়ী হবে।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ তাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার অভাব আছে। সংবিধানে সব নাগরিকের সমঅধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু কেউ ডান হাতে ভোট দেবে, কেউ বাম হাতে দেবে, কেউ আবার দুই হাতে ভোট দেবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশনকে ইভিএমের ব্যবহার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সরকার ও ইসি বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হবে বলে এসময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আব্দুর রব।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামালের নেতৃত্বে ইসি ও সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করবো। সংবিধানের কোথাও ইভিএম ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই।’

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২(ক) তে বলা আছে, সংসদ গঠন হবে প্রত্যক্ষ ভোটে। সংবিধানে ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে ‘ডিরেক্ট’ শব্দটি উল্লেখ করা আছে, যার অর্থ প্রত্যক্ষ। ইভিএম প্রত্যক্ষ ভোটের আওতায় পড়ে না। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সংবিধান বিরোধী। তাই সংবিধান সংশোধন ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডিবি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলবো, আপনারা নিরপেক্ষ হন। নির্বাচনের পর দেশে আপনারা থাকবেন, আমরাও থাকবো। আপনাদের ভূমিকার জন্য জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’

সেমিনারে ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানাভাবে ভোট জালিয়াতির কয়েকটি নমুনা দেখান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দল।

সেমিনারে বক্তারা ইভিএম’র সময়ভিত্তিক কারচুপি, সংখ্যানির্ভর কারচুপি, ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর কারচুপির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ না মিললে ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সাহায্য নিয়ে ভোট প্রদান করা সম্ভব। ফলে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার সুযোগ স্পষ্ট হয়। ইভিএম’এ কোনো পেপার টেন নেই ফলে ভোট পুনরায় গণনার সুযোগ নেই। সব ইভিএম মেশিন থেকে সংগৃহীত ভোটের চূড়ান্ত গণনা প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ নয়। প্রিসাইডিং অফিসারের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পোলিং এজেন্ট থাকছে না এবং পোলিং এজেন্টকে চূড়ান্ত ফলাফলের সার্টিফাইড কপি দেয়া হবে না। গোপনীয়ভাবে ওয়্যারলেস ডিভাইস সংযুক্ত করার মাধ্যমে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী অবস্থান থেকেই ভোটের ফল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সূত্র: প্রিয়

আরও পড়ুনঃ পুলিশের শীর্ষ ৭০ কর্মকর্তার বদলি সহ ১৩টি অভিযোগ জানিয়ে ইসিতে বিএনপি


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য পুলিশের শীর্ষ ৭০ কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনে তাদের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখাও দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জমা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চিঠির সাথে সচিবের কাছে তাদের একটি তালিকাও জমা দিয়েছেন।

জমা দেয়া তালিকায় কে কে আছেন? -সাংবাকিদকরা জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তালিকায় পুলিশ সুপার আছেন, বিশেষ শাখার পুলিশ কর্মকর্তারা আছেন, ডিআইজিরা আছেন, এডিশনাল ডিআইজি কর্মকর্তারা আছেন এবং এআইজি সাহেবরাও আছেন। এ সংখ্যা ষাটের ঊর্ধ্বে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনে সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফিসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব আর না ঘটে, এছাড়া যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ছেলে একজন এমপি প্রার্থী। তিনি বঙ্গভবনে তার এলাকার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন। তাদের আদর আপ্যায়ন করা হয়েছে। যেটি প্রভাব বিস্তারের অন্যতম উদাহরণ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব রির্টানিং কর্মকর্তারা পুলিশ সুপারদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেছেন। গত ১৬ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের বিভাগীয় কমিশনার ও রির্টানিং কর্মকর্তা তার এলাকার অন্য রিটার্নি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি নির্বাচন আচরণি বিধির ৭৩ এর ২বি, ৭৭ এর ১/ই এবং আরপিও-এর লঙ্ঘন। এনটিএমসি ও বিটিআরসির দলকানা কর্মকর্তারা গুলশানে তারেক রহমানের কথোপথন বন্ধ করে রেখেছেন। এখনও সেখানে ইন্টারনেন্ট বন্ধ। এটিও নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গ্রেফতার এখনও চলছে ব্যাপক হারে। গতকাল রাতেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও মনোনয়ন বোর্ডের নেতাও রয়েছেন। পোস্টার বিলবোর্ড সরানোর যে সময়সীমা দেয়া হয়েছিল সে ব্যাপারে এখনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঢাকা শহরে এখনও অসংখ্য নৌকা প্রতীকের বিলবোর্ড-পোস্টার রয়েছে। এমনকি সিটি কর্পোরেশনসহ এ সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের নামে নৌকা প্রতীকের প্রচার করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ বার বার তাদের সাথে যোগযোগ করে জানতে চাচ্ছে কে কোন দল করেন। এ তৎপরতা এখনও গণহারে চলছে।

সিইসি বিশেষ বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হয়রানি না করতে আহ্বান করা হয়েছে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষক করা হলে তিনি বলেন, আমরা দেখছি তিনি (সিইসি) আহ্বান জানিয়েছেন। এটি তো অনুরোধ বা অনুনয়। কিন্তু উনার তো নির্দেশ দেয়ার কথা। উনি নির্দেশনা দেবেন। সেই ক্ষমতা তার রয়েছে। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আমরা চাই।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচন: পুলিশ কথা না শুনলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে?


পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে এই বৈঠকে।

বৈঠকটি এমন সময় হচ্ছে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্রমাগত অভিযোগ করে চলেছে যে, শিডিউল ঘোষণার পরও বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেতা কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তফসিলের পর থেকে এপর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া তাদের দলের ৫২৯ জন নেতা কর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছেন।

এর আগেও বিএনপি দুই দফায় তাদের দলের গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, ‘পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন।’

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কাছে দাবি করেছেন যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকেই আটক করা হচ্ছেনা।

এ পটভূমিতে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের প্রাক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়ার থাকলে সেটিই আজ কর্মকর্তাদের দেবেন তারা।

‘যেহেতু এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে তাই নির্বাচন বা রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে যেনো কোনো দলের নেতাকর্মী হয়রানির শিকার না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকা। যদিও আইন শৃঙ্খলাকে অস্থিতিশীল করতেও হয়তো কেউ তৎপর থাকবে-সেটিও সহনশীলতার সাথে দেখা’।

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী সমর্থক বা নেতাদের রাজনীতি সম্পর্কিত কোন তৎপরতার জন্য ধরপাকড় যেনো না হয় সে ব্যাপারে তাদের বলা হবে।’

বিএনপি ধরপাকড়ের যেসব অভিযোগ করেছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি তালিকা দেখেছি যেখানে ২০১৩-১৫ সালে আটক যারা হয়েছেন তাদের মামলার তালিকা।

‘তফসিল ঘোষণার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা দেয়ার জন্য আমরাই বলেছি। তেমন থাকলে আমরা খতিয়ে দেখবো। রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রেপ্তার হলে সেক্ষেত্রে আমাদের নির্দেশনা সেভাবে থাকবে’।

পুলিশ কথা না শুনলে কমিশন কী করতে পারে?

নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলছেন এ বিষয়ে একটি আইন রয়েছে।

‘তফসিল ঘোষণা থেকে চূড়ান্ত রেজাল্ট এবং সেটা গেজেট হওয়া পর্যন্ত যে নির্বাচন কালীন সময় আছে এটুকু সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কমিশন নিতে পারে’।

কর্মকর্তারা বলছেন আইনানুগ ব্যবস্থা বলতে পুলিশ যদি নির্দেশনা না মানে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরণের ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

তবে যেহেতু একটি দলীয় সরকার ক্ষমতায় আছে এবং পুলিশ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা কতটুকু কার্যকর হয় সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলছেন একমাত্র এ ধরণের পরিস্থিতি উদ্ভব হলেই দেখা যাবে যে কমিশনের নিদের্শনা কার্যকর হয় কি-না ঠিকমতো।

আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে অগ্রাধিকার কি কি

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছেন নির্বাচনের একটা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ যেনো থাকে এটিই কমিশনের চাওয়া।

‘এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রার্থীরা যেনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সারা পৃথিবীতেই আছে। আমরা তেমন আশংকা না করলেও উড়িয়ে তো দেয়া যায়না’।

তিনি বলেন তারা চান নির্বাচনের পরিবেশ যেনো সুষ্ঠু থাকে। প্রার্থীরা যেনো সমান সুযোগ পায় ও ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। আর নির্বাচনের পরেও যেনো কোনো সহিংসতা না হয়।

সুত্রঃ বিবিসি খবর

আরও পড়ুনঃ দাদা সালমান রহমান বাবা নাজমুল হুদাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে ধানের শীষে অন্তরা হুদা


প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী ঘাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ.রহমান। তারই ভাতিজা সাবেক বিএনপি নেতা ব্যরিস্ট্রার নাজমুল হুদা আর নাজমুল হুদার বড় মেয়ে অন্তরা হুদা। পারিবারিকভাবে তারা অনেকটা একই পরিবারেরই অংশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হবার লক্ষ্য নিয়ে একই পরিবারের তিনজনই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তবে পার্থক্য হচ্ছে, সালমান এফ রহমান ও তার ভাতিজা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন আর হুদা কন্যা অন্তরা হুদা চেয়েছেন বিএনপির ধানের শীষে মনোনয়ন। আবার সালমান এফ রহমান ও অন্তরা হুদা ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পত্র নিলেও তাদের আসন একই। দুজনেই ঢাকা-১ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন নিজ নিজ দলের কাছ থেকে।

অন্যদিকে নাজমুল হুদা নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে। অবশ্য তিনিও বলছেন, তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন না দেয়া হলে তিনিও ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র বিক্রির প্রথম দিনই ঢাকা-১ আসনের জন্য সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন তার ঘনিষ্টজন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন। একই দিন ব্যরিস্ট্রার নাজমুল হুদার পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তারই ঘনিষ্ঠজন আক্কাস আলী খান। এছাড়া গতবুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নাজমুল হুদার বড় মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দোহার থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন। নাজমুল হুদা আওয়ামী লীগ ও মেয়ে অন্তরা হুদা বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করায় বিষয়টি রাজনৈতিকমহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

তবে অন্তরা হুদার পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা দোহার থানা যুবদলের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন যুক্তি দেখিয়ে বলেন, বাবা নাজমুল হুদা দল পরিবর্তন করলেও তার মেয়ে বিএনপিতেই আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে তিনি সক্রিয়। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ এরশাদের জায়গায় বি চৌধুরী

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বি. চৌধুরী – ছবি : সংগ্রহ

আলফাজ আনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের রাজনীতিতে নানা ধরনের মেরুকরণ ঘটছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সমবেত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অপর দিকে, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে হালুয়া-রুটির ভাগীদার অনেক নেতা আওয়ামী লীগের মহাজোটে যোগ দিচ্ছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এ ধরনের আরো অনেক চমক আসবে।

মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টি কোন পথে যাবে, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে এক ধরনের টেনশন আছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হঠাৎ করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি রহস্যজনকভাবে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তার সাথে দেখা করে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। সুজাতার সাথে বৈঠকের পর সে কথা এরশাদ নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে। কিন্তু তিনি নির্বাচন বর্জনের অবস্থানে অনড় থাকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তার কথিত অসুস্থতায় ‘উদ্বিগ্ন’ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি করান।

তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর হাসপাতাল থেকে সরাসরি এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব নেন। এবারো নির্বাচনের আগে এরশাদ যখন অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন তখন নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতাল থেকে তিনি কোথায় ছিলেন কেউ জানেন না। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার নিশ্চিত করেছেন, তারা মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করবেন। আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে একটি বৈঠক হলেও ফলাফল জানা যায়নি। জাতীয় পার্টি ১০০ আসনের আবদার করেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল পাত্তাই দিচ্ছে না। এ নিয়ে দু’দলের টানাপড়েন কাটছে না। হাসপাতাল থেকে তিনি মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসে বলেন, এখনো আমি মুক্ত নই। এরশাদের মুক্তি সহজে মিলবে না বরং চাপ আরো বাড়বে।

এরশাদকে নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী মহাজোটে যোগ দেয়া কিংবা সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরশাদের পরিবর্তে এখন বি. চৌধুরীকে কাছে টানতে চায় ক্ষমতাসীন দল। যদি কোনো কারণে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বি. চৌধুরী বিরোধী দলের নেতা হলে তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, এমন ধারণা ক্ষমতাসীন দলের রয়েছে। তবে ভোটের রাজনীতিতে তিনি বা তার পুত্রের অবস্থান খুবই দুর্বল। মহাজোটের কাছ থেকে পাঁচটি আসন প্রার্থী পাওয়ার প্রস্তাব দেয়াও দুরূহ হবে। মোট কথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে দুই প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা হঠাৎ বি. চৌধুরীর সাথে বৈঠকের পর এমন গুজব আরো জোরদার হচ্ছে যে, এরশাদের জায়গাটি বি. চৌধুরী নিতে যাচ্ছেন। তার সাথে বিএনপির এক সময়ের পররাষ্ট্রনীতির কাণ্ডারি শমসের মবিন চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপির পক্ষে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনি সম্প্রতি বি. চৌধুরীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক সময় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বহু আলোচনা ও দেনদরবার হয়েছে। বি. চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি বি. চৌধুরী অস্থিরচিত্তের রাজনীতি আর পেছনে নানা সুতোর টানে কোথাও স্থির হতে পারছেন না। বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ দু’জনই বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে একসাথে জোট গঠন করেছিলেন। কিন্তু তারা একসাথে কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অলি আহমেদ তার দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি নিয়ে সে জোট থেকে বেরিয়ে যান। অলি আহমেদ এখন ২০ দলীয় জোটে আছেন।

অপর দিকে বি. চৌধুরী প্লান ‘বি’ নিয়ে মহাজোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বা তাদের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ঐক্যফ্রন্টে গেলে তিনি যে প্লান ‘এ’ বাস্তবায়নে তৎপর থাকতেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। এর অংশ হিসেবে খুচরা দলগুলোর জোট গঠনের আগে তিনি ১৫০ আসন তাকে দেয়ার দাবি তুলেছিলেন। এরপর তিনি দাবি করেন, বিএনপি কথিত স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না। অর্থাৎ ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে হবে।

বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তি আবার বিএনপির রাজনীতির নির্ধারক হওয়ার দাবি তুলেছিলেন। এটাই হয়তো ছিল বি. চৌধুরীর প্লান ‘এ’। স্বাভাবিকভাবে, বিএনপি তাকে শুরু থেকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছিল। এই সন্দেহ যে অমূলক নয়, বি. চৌধুরীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। বি. চৌধুরী নানা বিতর্ক সৃষ্টি করে বিএনপিকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছিলেন। মূলত ক্ষমতাসীন দলের ‘বি’ টিম হিসেবে তিনি ঐক্যফ্রন্টে আসতে চেয়েছিলেন। এখন তিনি মহাজোটে যোগ দিয়ে বা সমঝোতা করে বিএনপির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ কৌশলকে তার প্লান ‘বি’ বলা যায়। বিএনপির ওপর তার ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার প্রকাশ।

বি. চৌধুরী ও মাহি বি. চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ড. কামাল হোসেন পরোক্ষভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে জোট গঠন করেছেন। তারা বোঝাতে চাইছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি আছে। আবার বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটে জামায়াত আছে। তাহলে কামাল হোসেন স্বাধীনতাবিরোধী।’

অনেকটা এমন যুক্তি- গরু ঘাস খায়, সেই ঘাস খেয়ে গরু দুধ দেয়, দুধ মানুষ খায়; অতএব, মানুষও গরু। এমন যুক্তিতে বি. চৌধুরীকে অনেকে ‘জামায়াতি’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। বিএনপির এ প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি- এই দুই মন্ত্রীর সাথে তখন তিনি শপথ নিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে একসাথে যোগ দিতেন। তখন তিনি কথিত স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যাপারে টুঁ-শব্দটি করেননি। হঠাৎ এখন তিনি জামায়াতবিরোধী রাজনৈতিক কার্ড খেলতে চাইছেন। কিন্তু এই কার্ড এত বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যে, তাতে কোনো সাফল্য আসার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে এতটাই মেরুকরণ হয়েছে, জামায়াতবিরোধিতা নির্বাচনী রাজনীতির কোনো ইস্যু হিসেবে দাঁড়াবে না। অনেকে মনে করেন, পুত্রস্নেহ বি. চৌধুরীকে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা তার অতীত রাজনৈতিক চরিত্রের সাথে মানানসই নয়।

যা-ই হোক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন জোট বি. চৌধুরীকে দিয়ে আরেকটি ফ্রন্ট খুলতে চাইছে। কিন্তু তাতে কতটা সফলতা আসবে, তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ আছে। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় সরকার এই জোটকে আমলে না নিলেও এখন এটাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট এত শক্তিশালী রূপ পাবে, তা ক্ষমতাসীন দল অনুমান করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এখন ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে বড় চমক ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তনয় ড. রেজা কিবরিয়ার গণফোরামে যোগদান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেছেন, যে আদর্শের জন্য আমার বাবা লড়াই করেছেন, আওয়ামী লীগ সেটা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগদানের সময় তিনি মনে করিয়ে দেন, তার বাবা সরকারি কর্মচারী ছিলেন; বাংলাদেশের সেবা করেছেন। তার বক্তব্য- ‘উনি বঙ্গবন্ধুর অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৈরি করেছিলেন, বাবা পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।

উনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় সার্কের আঞ্চলিক পজিশন পেপার তৈরি করেছিলেন। উনি দেশকে সেবা করেছেন। কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী বা দলের প্রতি কিছু আনুগত্য উনার থাকতে পারে।’ রেজা কিবরিয়া তার বাবার হত্যার বিচার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পর দুই বছর বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তারা কিছু করতে পারেনি। দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তারাও করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল, তারা এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত পর্যন্ত করতে পারেনি। কার ওপরে আমার বেশি অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত? দুই বছর নাকি সাড়ে ৯ বছর যারা কিছু করেননি তাদের ওপর?’ রেজা কিবরিয়া এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির ব্যর্থতার দিক তুলে ধরেছেন।

রেজা কিবরিয়ার মতো আরো অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আসার পর ড. কামাল হোসেন এই প্রথম একটি বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক জাঁদরেল নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, মোস্তফা মহসিন মন্টুর সাথে রেজা কিবরিয়ার মতো তরুণেরা যোগ দিলে সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগের বিকল্প একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়াতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাবেক সেনাকর্মকর্তা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে ড. কামাল হোসেনের এটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আসলে দেশে এক ধরনের জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ক্ষেত্রে বিএনপি সত্যিকার অর্থে, প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি আসন ভাগাভাগি নিয়েও বড় ধরনের সঙ্কট হবে না, এমন কথা বলছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকাও ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। বিএনপির পর ২০ দলীয় জোটের প্রধান শক্তি হলো জামায়াত। বিএনপি যখন ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে, তাতে জামায়াত বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকবে না, সেখানে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। তিনি বলছেন, ‘একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয়, তাহলে সবাইকে বড় মনের পরিচয় দিতে হবে।’ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় মনের পরিচয় দেয়াই এখন বেশি জরুরি।
alfazanambd@yahoo.com
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন বয়কট নয়, কঠিন পরিকল্পনা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের


দলীয়ভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরসাক্ষাৎকার শেষ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য দলগুলোও। ইতিমধ্যে বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ১৯টি দল তাদের চাহিদা অনুযায়ী আসনের তালিকা বিএনপিকে দিয়েছে। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। দু-একদিনের মধ্যেই তারা এসব নিয়ে বিএনপির সঙ্গে বসবে।

জানা গেছে, সবাই দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য খুব সহজেই তাদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা হবে। এনিয়ে কোনো প্রকার সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন না দুই জোটের নেতারা। এখন তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাঠে নামার।

দুই জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তাদের পরিকল্পনা একেবারে ভিন্ন। নির্বাচন বয়কট করার মতো কোনো চিন্তাই তাদের নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবার তারা নির্বাচনী মাঠে থাকবে।

ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা মনে করছিলেন যে ৭ দফা দাবি না মানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেবে না। এসুযোগে তারা আবারো এরশাদসহ বি চৌধুরীকে বিরোধী দলে রেখে আরেকটি নির্বাচন করে তারা পুনরায় ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু আমরা এবার আর আওয়ামী লীগকে সহজে ছাড় দেবো না। দাবি করতে গিয়ে আন্দোলন করেও সব শক্তি ক্ষয় করবো না। আর নির্বাচন থেকেও সরে আসবো না।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ইতিমধ্যেই দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সবাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আছে। তারপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনী মাঠে থাকবে। জনগণও আমাদের সঙ্গেই আছে। ডাক দিলেই মাঠে নেমে আসবে। আওয়ামী লীগ চাইলেও এবার আগের মতো ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের একজন শীর্ষ নেতা জানান, এবার আর আমরা নির্বাচন বয়কট করবো না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে যে শক্তি আমরা ক্ষয় করেছিলাম এবার তা করা হবে নির্বাচনে। প্রতীক বরাদ্দের পরই ২০ দলের নেতাকর্মীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। আমরা আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী মাঠ আমাদের অনুকূলে চলে আসবে। আর পুলিশ দিয়ে সরকার যতই হয়রানি করার চেষ্টা করুক, ২০ দলের নেতাকর্মীরা এবার মাঠ ছাড়বে না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট ছিনতাইসহ ভোট ডাকাতি ঠেকাতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এবার আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডু অর ডাই।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ নতুন সংসদ ও সরকার নিয়ে আইনি ধোঁয়াশা


আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে কাজ করে চলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন সম্পন্ন হলে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর বাকি থাকবে এমপিদের শপথ, গেজেট প্রকাশসহ অন্যান্য কাজ। আর ২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ। এরপর একাদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য কাজ শেষ না করতে পারলে ও আগের সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে কী হবে। এর সমাধানে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বিধান। বিষয়টিতে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও আইনি ধোঁয়াশা।

কোনো কোনো আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন সব কিছু নিয়ে আইন তৈরি হয় না। কিছু রীতি-নীতি, প্রথা অনুসরণ করে চলতে হয়। এমন বিষয় নিয়ে কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রিয়.কমের কথা হয়।

বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘সংবিধান তো মানুষের জন্য। সংবিধানের জন্য তো মানুষ না। নির্বাচনের পর এই জিনিসগুলো সমাধান করা যাবে। এজন্য সকলকে থাকতে হবে ঐক্যবদ্ধ।’

তার মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দায়িত্ব হস্তান্তর ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে সমস্যা হবে না। নির্বাচনটা সুষ্ঠু হলো কি না, গ্রহণযোগ্য হলো কি না; সেটিই দেখার বিষয়।

সব কিছু আইন দিয়ে হয় না, এমন মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিয়ময় বড়ুয়া বলেন, ‘কোন বিষয়ে আইন না থাকলে সেটি সংবিধানে ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হয়।’

সংবিধানে ১৫২ অনুচ্ছেদ বলা আছে “আইন” অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি;

তিনি বলেন, ‘সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতা হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) না করবে, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশন দায়িত্বে থাকছে। আসলে ঘাটতি একটা থাকছেই কিন্তু সে ঘাটতি কে পূরণ করবে, সেটি কিন্তু সংবিধানে নেই। এই জন্য একটি নির্বাচনকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকার থাকা উচিত ছিল, যে দাবিটি প্রায় সময়ই ওঠে।

‘আইন না থাকলেও সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তো স্যুয়োমুটো দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত কোনো পলিটিক্যাল সিদ্ধান্ত নেবে না। সুপ্রিম কোর্ট হলো কনস্টিটিউশনের কাস্টরিয়ান। সুপ্রিম কোর্টের পলিটিক্যাল ডিশিসন নেওয়ার রাইট (অধিকার) নাই।’

সাংবিধানিক শূন্যতা বা আইনি জটিলতা তৈরি হলে তার সমাধান দেবে সুপ্রিম কোর্ট। এমন মতামত দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপিদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

‘আগের এমপিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে তাদের আর কোনো পাওয়ার (ক্ষমতা) থাকবে না। সংসদ থাকবে না, তবে সরকার যেটা আছে সেটা থাকবে।’

যদি সংকট তৈরি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সমাধান আসবে কোন জায়গা থেকে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমাধান চাইতে হলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হবে। কোর্টের কাছে ব্যাখা চাইতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে কী ব্যাখা দিতে পারে সেটি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে- যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জন-গুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপিল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

মঞ্জুরুল হক আরও বলেন, ‘সাধারণত এ রকম সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।’

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সংকট তৈরি হলে কী হবে

নির্বাচনের পর সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। জরুরি অবস্থা জারি করা নিয়ে সংবিধানের ১৪১ক এর(১) এ বলা আছে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরি-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরি-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন

(২) তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।

এসব বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকলেও সংবিধানের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সমাধান দিতে পারে।

সূত্র: প্রিয়

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here