আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করেছে খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশ। ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর পাঠাতে গিয়ে ওসি ভুল করে পাঠিয়ে দিল নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য তালিকা। সেই তালিকায় দেখা গেছে, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন শিক্ষকের নাম। এদের ভেতরে ৬৩ জন বা ৮৫ শতাংশই আওয়ামী লীগ সমর্থক। ছয়জন বা ৮ শতাংশ বিএনপি সমর্থক। চারজন বা ৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। একজন শিক্ষক কোনো দল করেন না বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত রোববার খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশ থেকে এক মেইল বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হরিণটানা থানার ১১৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার নিয়ে ওসি হরিণটানা নামের ইমেইল আইডি থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে ছবি ও গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর জানানো হয়।

ওই খবরের নিচে ছিল খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সিটি স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হরিণটানা থানার ওসির একটি আবেদনপত্র। এতে বিষয় হিসেবে লেখা ছিল : প্রিজাইডিং/সহ. প্রিজাইডিং/পোলিং অফিসারদের নামের তালিকা প্রেরণ প্রসঙ্গে।

চিঠিতে বলা হয়, যথাযথ সম্মান পূর্বক উপযুক্ত বিষয় প্রেক্ষিতে আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে প্রিজাইডিং/ সহ. প্রিজাইডিং/ পোলিং অফিসারদের নামের তালিকা নিম্নোক্ত নির্ধারিত ছক মোতাবেক প্রদান করা হলো।

সেই তালিকায় ছিল হরিণটানা থানাধীন চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন শিক্ষকের তালিকা। তালিকায় শিক্ষকদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত নামে ছক ছিল। ওই ৭৪ জন শিক্ষকের মধ্যে চারজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে এনটিভি অনলাইনের এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে একজন খুলনার রাজবাঁধের প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক বিমল কৃষ্ণ বৈরাগী।

হরিণটানা থানা পুলিশ সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে আপনাকে ‘আওয়ামী লীগ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আপনাকে কি কখনো পুলিশ ফোন করেছিল- এমন প্রশ্নে কৃষ্ণ বৈরাগী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। স্থানীয় সবার সাথেই আমার চলতে হয়। এই বিষয়ে কথা বলার মতো ক্ষমতা আমার নেই।’

কথা হয় রায়েরমহল হামিদনগর হাজী মো. মহাসীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ম্যোল্লা তাজউদ্দিনের সঙ্গেও। পুলিশের তালিকায় তাঁকে ‘বিএনপি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করেনি। তবে আমাদের স্কুলে এসেছিল। স্কুলে এসে তারা কতজন শিক্ষক আছে, তাঁদের নামের তালিকার সঙ্গে ফোন নম্বর নিয়ে যায়। মাস খানেক আগের ঘটনা এটা। পরে অন্য স্কুলের শিক্ষকদের মুখেও শুনতে পেলাম একই কথা। তাদেরও নাম আর ফোন নম্বর নেওয়া হয়েছে। তখন শুনলাম যে, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে তথ্য নিতে এসেছে পুলিশ।’

হোগলাডাঙ্গা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পপি মিস্ত্রী। পুলিশের তালিকায় তাঁকে ‘আওয়ামী লীগ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্কুলে পুলিশ গিয়েছিলো কিনা আমি জানি না। তবে আমার স্বামীর কাছে পুলিশ দুইবার ফোন করেছিল। ফোন করে জানতে চেয়েছে, আমি কী করি, গ্রামের বাড়ি কোথায়, বাবা-মায়ের নাম। ওই পত্রিকায় যেমন লিখেছে ঠিক তেমনই।’

আরেকজন হলেন সরদার রফিকুল ইসলাম। তিনি শহীদ আবুল কাশেম কলেজের সহকারী অধ্যাপক। পুলিশের করা তালিকা অনুযায়ী তিনি বর্তমানে ‘বিএনপি’। তবে আগে ‘জামায়াত’ ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজ এলাকার আশপাশে সব সময় অবস্থান করেন সিটি এসবির মনিরুল ইসলাম নামের একজন কর্মকর্তা। মাস তিনেক আগে তিনি অনেকের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। বলেছিলেন, কেন্দ্রে নাকি তাঁকে পাঠাতে হবে।

একই কলেজের শিক্ষক আজিজুর রহমান, মনিরুজ্জমান হাওলাদার ও মো. নূর ইসলামকে বটিয়াঘাটা থানা থেকে ফোন করা হয়েছিল। পুলিশের করা তালিকা অনুযায়ী তাঁরা তিনজনই জামায়াতের সমর্থক। জানতে চাইলে সরদার রফিকুল আরো বলেন, বটিয়াঘাটা থানা থেকে ফোন করা হয়েছিল। বাবা-মায়ের নাম, কোথায় থাকে, জামায়াত করে কি না, এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

এভাবে পুলিশ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে পারে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এটা কি হয় নাকি? পুলিশ কেন তালিকা করে গণমাধ্যমে পাঠাবে? পুলিশের মেইল আইডি হ্যাক হতে পারে। অন্য কেউ এটা করতে পারে। আর পুলিশের ভেতরে যদি কেউ করে থাকে তবে সে অতি উৎসাহী হয়ে করেছে। নির্বাচন কমিশন তালিকা সংগ্রহ করেছিল। পুলিশের করার কথা না। তবে যদি কেউ করে এবং আমরা প্রমাণ পাই তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনার আঞ্চলিক কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী এনটিভি অনলাইনকে জানান, তারা এখনও এই ধরনের কার্যক্রম শুরু করেননি।

হরিণটানা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) বিজয়া জানান, ওসি নাসিম খান দুই দিনের ছুটিতে গেছেন। তিনি না এলে কিছু বলতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আরো একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার পরিকল্পনা শুরু করেছে।

সুত্রঃ এনটিভি বিডি

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশন কেন বিতর্কিত ভুমিকায়?


একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের মুল কাজই হলো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। এই কাজটি করার জন্য সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে কমিশনকে যথেষ্ট সহযোগিতাও দেয়া হয়েছে। জনগন প্রত্যাশা করে যে সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে এবং স্বাধীনভাবে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবে। তবে বাংলাদেশের চিত্র পুরোটাই বিপরীত। বিগত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী সরকারের আমলগুলোতে যে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলো হয়েছে সেখানে নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা ছিল সরকারের হাতের ইশারায় নৃত্য করা পুতুলের মতই। ফলে সাম্প্রতিক কোন নির্বাচনই জনগনের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি।

আগামী ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে একটি রাজনৈতিক তথা দলীয় সরকারের অধীনে। তাই জনমনে সন্দেহ এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা নাকি বিগত বছরগুলোর মতই একটি প্রহসন হয়ে রবে। সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোর পর নির্বাচন কমিশনের উপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায়। খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে সিটি নির্বাচনে স্মরনাতীতকালের মধ্যে ভয়াবহতম ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি বরাবরই নির্বাচন নিয়ে তাদের আশংকার কথা ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বরাবরই জানিয়েছে নির্বাচন নাকি সুষ্ঠুই হবে। সর্বশেষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে শেখ হাসিনার যে সংলাপ হয় সেখানে ফ্রন্টের দাবী অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করেন সরকারী দলের নেতারা। তবে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এই সব রাজনৈতিক হিসেব নিকেষের বাইরে নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই তার ভুমিকাকে প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও তাদের কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার কথা নয়, কিন্তু তারপরও কমিশন প্রথম প্রশ্নবিদ্ধ হয় যখন সংলাপ চলাকালেই ৮ নভেম্বর তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করে। রাজনৈতিক দলগুলো সেটা মানতে না পারায় তারা পরে আবার এক সপ্তাহ পিছিয়ে নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারন করে। বিরোধী দলগুলো আরো ৩ সপ্তাহ পেছানোর দাবী নিয়ে আবারও কমিশনকে অনুরোধ করেছে। প্রশ্ন হলো, তফসিল ঘোষনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই অহেতুক তাড়াহুড়োর কারন কি? এর পেছনে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সংলাপ প্রক্রিয়াকে কেন তারা বাঁধাগ্রস্ত করলো?

যা হোক, তফসিল ঘোষনার পরপরই ৯ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগ তাদের ধানমন্ডিস্থ কার্যালয় থেকে মনোয়ননপত্র বিতরন ও বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে। নির্বাচন বিধির পরিস্কার লংঘন করে আওয়ামী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিরাট সব শোডাউন করে ধানমন্ডি কার্যালয়ে এসে মনোনয়ন সংগ্রহ করে। এতে গোটা শহর জুড়েও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তারপরও তারা নির্ভিগ্নেই কাজটি সম্পাদন করে।

একইভাবে বিএনপি তার নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ ও বিক্রি শুরু করে ১২ নভেম্বর। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নানা ধরনের মিছিল নিয়ে এসে উৎসবপূর্ন পরিবেশে মনোনয়ন সংগ্রহ করে। এই কার্যক্রম চলাকালে ১৩ নভেম্বর হঠাৎ করেই নির্বাচন কমিশন আচরন বিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে চিঠি দেয়। ১৪ নভেম্বর বিএনপি অফিসের সামনে বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়। সেদিন বিএনপির নেতাকর্মীর সাথে পুলিশের ব্যপক সংঘর্ষ হয়। বেশ কয়েকজন পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মী এই ঘটনায় আহত হন। নিপুন রায়সহ বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মীকে ৫ দিনের রিমান্ডেও নেয়া হয়।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, নির্বাচন কমিশন কি আদৌ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে? তারা কি কারও উপর বিরাগভাজন হয়ে কোন কাজ করছে? একটি দলকে ঝামেলামুক্তভাবে কাজ করতে দিয়ে আরেক দলের একই কর্মকাণ্ডের সময় কেন পুলিশ দিয়ে হয়রানি? কেনই বা প্রশাসনকে চিঠি? আগে কেন এই চিঠিটি দেয়া হলোনা?

নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করা। ১০০ ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন পৃথিবীর কোথাও হয়না বা বাংলাদেশেও হবেনা- এটা বলা তাদের কাজ নয়। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম সম্প্রতি এই ধরনের একটি মন্তব্য করে সবমহলে সমালোচিত হয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা কমিশনাররাই যখন এহেন মন্তব্য করেন তখন সাধারন ভোটাররা অনেকটাই দ্বিধায় পড়ে যায়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদাও ৭ আগষ্ট বলেছিলেন যে নির্বাচনে কোন অনিয়ম হবেনা- এটা তিনি গ্যারান্টি দিতে পারবেন না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই সরকারের আজ্ঞাবহ একটি প্রতিষ্ঠানের মতই কথা বলছে। তাদের উচিত ছিল সকল দলকে আস্থায় নিয়ে নির্বাচন করা। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রথম থেকেই বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য কোন উদ্যেগ নিতে রাজী ছিলেন না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মুল কর্তা হিসেবে তার এহেন দলীয় মানসিকতা কাম্য নয়। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনটিও কতটা দলীয় মানসিকতার বাইরে যাবে আর এই সব অযোগ্য কমিশনাররাই বা কতটা গনমানুষের পক্ষ নিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ভুমিকা পালন করবেন- সেটা নিয়ে আশংকা থেকেই যাচ্ছে।

তাছাড়া এত অকর্মন্য নির্বাচন কমিশন এর আগে বাংলাদেশে কখনো দেখাও যায়নি। তফসিল ঘোষনা দেয়া হয়েছে অথচ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বা লাইসেন্স করা অস্ত্র থানায় জমা দেয়ার কোন সার্কুলারও এখনো জারি হয়নি। প্রচারনার সময় শুরুই হয়নি। অথচ প্রতিটি রাস্তাঘাট, পাড়া মহল্লার মোড় পোস্টারে আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে। গতকাল পোস্টার সরানোর নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। ইসি সচিব বললেন, ৯০ শতাংশ পোস্টার নাকি সরানো হয়েছে। জানিনা, ইসি সচিব বা কমিশনাররা কোন শহরে থাকেন। ৯০ শতাংশ পোস্টারই এখন আগের মতই ঝুলছে। প্রার্থীরা নির্বাচন বিধি লংঘন করছে ইচ্ছেমত। পুলিশ বা প্রশাসনের উপর নির্বাচনকালীন সময়ে শত ভাগ নিয়ন্ত্রন থাকার কথা ইসির, কিন্তু প্রশাসন পরিচালনায় তাদের অসহায়ত্ব দিবালোকের মত স্পষ্ট। এরকম একটি অকার্যকর নির্বাচন কমিশন নিয়ে আর যাই হোক গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে কোন জোটে যেতে হবে, তা আমার উপর ছেড়ে দাও, এখনও আমার নামে মামলা আছে!


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, নির্বাচনে কোন জোটে যেতে হবে, তা আমার উপর ছেড়ে দাও। তোমরা জানো, এখনও আমার নামে মামলা আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানের ইমানুয়েল কনভেনশন হলে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

৩০০ আসনে প্রার্থিতার কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘রাজনীতির কারণে অন্য জোটে যদি যেতে হয়, সেই সিদ্ধান্ত এককভাবে আমি নেব।’

এ সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একযোগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার দাবি তোলেন। তাদের দাবির জবাবে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমার উপর ছেড়ে দাও। এখনো মামলা আছেতো আমার নামে, তোমরা জানো।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি একা সারা দেশ ঘুরেছি। তখন আমার সঙ্গে কেউ ছিল না। আজ এত লোক আমার সঙ্গে, জাপার দুঃখ ঘুচে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার জাপার সর্ববৃহৎ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। পার্টির সাংগঠনিক রূপ নিয়েছে, যা ধরে রাখতে হবে।’

এরশাদ বলেন, ‘জাপা বিলীন হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ আপনারা। ৩০০ আসনে প্রার্থী আছে কি না, দেখতে চেয়েছিলাম। আমরা সফল হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে প্রার্থী করতে পারব না। আমি যাকে যোগ্য মনে করব, মনোনয়ন দেব। আর এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে তার অসুস্থতা কতটা গুরুতর। অবশ্য তিনি সোমবার হাসপাতাল ছেড়ে আসেন।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এইচ এম এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেবার নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পরই তাকে জোর করে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন। আপনাদের দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ কেন সামরিক হাসপাতালে?

উনি রুটিন চেক-আপের জন্য হাসপাতালে গেছেন। উনি নিয়মিতই যান। হাসপাতাল থেকে উনি কালও চলে আসতে পারেন। দু’এক দিন দেরিও হতে পারে। হাসপাতালের সব বড় বড় কর্মকর্তারা সেখানে উনার দেখাশোনা করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, মেজর জেনারেল পদমর্যাদার লোকজন।

উনার কি কোন বিশেষ শারীরিক অসুবিধা আছে?

না, স্বাভাবিক চেক আপ। ব্লাড সুগার, হার্ট, প্রেশার এসব। ব্লাড সেলগুলোও দেখা হচ্ছে।

রেগুলার চেক-আপই যদি হবে, উনাকে ভর্তি হতে হলো কেন?

না, উনি প্রায়শই এরকম গিয়ে এক-আধ দিন থাকেন। উনি তো সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ক্যান্টনমেন্ট তারও একটা আস্থার জায়গা। বাসার চেয়ে কম না। উনি সেখানে এক আধ দিন থাইকা আবার চলে আসেন।

কবে নাগাদ উনি হাসপাতাল থেকে চলে আসবেন বলে আশা করছেন?
দু’এক দিনের মধ্যেই আসবেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তো উনাকে এভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল?
(হেসে) দিন তো একভাবে যায় না। সবসময় কি একই রকম যায়? সব সময় তো একই রকম যায় না।

না, অসুস্থতা না। উনি একটু গেছেন, দু্’এক দিন থাকার পর আবার আসবেন। আপনি যদি দু’একদিন পর আমার সঙ্গে কথা বলেন, এটা লাউড এন্ড ক্লিয়ার হবে।

আপনি কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন, দলের নেতারা কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন?

আমি নিজে তো দুপুরে আসলাম। আবার একটু আগে কথা বলেছি। কোন অসুবিধা নাই তো। যেটা আপনাদের ভাবনা, তা নয়। যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিভ্রান্তিকর। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। উনি জাতীয় নেতা। দলের চেয়ারম্যান। সাবেক রাষ্ট্রপতি। সাবেক সেনা প্রধান। এখন একটা নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য আসাটা অনাকাঙ্খিত। আমরা নির্বাচনে আছি। এবং উনি নির্বাচনে গুলশান থেকে, রংপুর থেকে নির্বাচন করবেন। আরও দুটি আসনেও কথা হচ্ছে।

আপনারা যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করবেন, সেই আলোচনা কি শেষ করে ফেলেছেন? কে কত আসনে নির্বাচন করবেন?

আলোচনা খুব স্বাভাবিক এবং আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। সেরকম কোন প্রতিকুল অবস্থা নেই। আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেকদূর এগিয়ে আছি। এটা স্পষ্ট হবে। দু’চারদিনের মধ্যে জানাতে পারবো।

আপনাদের ওপর কি সরকারের দিক থেকে এমন কোন চাপ আছে, যে তাদের সঙ্গেই থাকতে হবে, বিএনপি বা আর কারও সঙ্গে যেতে পারবেন না?

হ্যাঁ চাপ আছে। সেটা হলো, ভালোবাসার চাপ। আস্থার চাপ। বিশ্বাসের চাপ। সেটা তো উপেক্ষা করা যায় না।
আপনি বলছেন যে আপনাদের দলের চেয়ারম্যান ভালো আছেন, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই হাসপাতালে গেছেন, তাকে জোর করে সেখানে নেয়া হয়নি?

না, না, নেয়া হয়নি। আপনি ভালো থাকবেন। (এরপর উনি ওবায়দুল কাদের সাহেব ফোন করেছেন বলে লাইন কেটে দেন)।

যা ঘটেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে
২০১৩ সালে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শুরুতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ৩রা ডিসেম্বর হঠাৎ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির এই সিদ্ধান্ত তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছিল। তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচন যাচ্ছে বলে ঘোষণা করে।

এরকম এক পটভূমিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদকে র‌্যাব আটক করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয় ঢাকার পত্রিকায়। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তিনি আটক হননি, তাকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে দলের কোন কোন নেতা তখন দাবি করেছিলেন, এরশাদ অসুস্থ নন।

এরপর বেশ কিছুদিন এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। তবে ‘অসুস্থ’ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এরশাদকে গলফ খেলতে দেখা গেছে বলেও সেসময় পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে’


পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখেছি পুলিশকে ব্যবহার করে নির্বাচনে কারচুপির করা হয়েছে। এবার জাতীয় নির্বাচনেও সেই রকম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আমরা দাবি জানিয়েছিলাম বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে। অথবা তাদের ক্লোজ করতে হবে। কিন্তু তা করেনি।

এমনকি হেড কোয়ার্টারে বসে যারা নির্বাচনে কারসাজি করার পরিকল্পনা করছে তাদের প্রত্যাহার করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব রয়েছে তার কোনোটিই পালন করছেন না তারা। তফসিল ঘোষণার পরও বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জামিন নিতে গেলে তাদের জামিনও দেয়া হচ্ছে না। মির্জা ফখরুল বলেন, সকল দলের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তারা এর কোনো দায়িত্ব পালন করছে না।

আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ঠ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ করা না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আশা করব নির্বাচন কমিশনের বোধদয় হবে। তারা জেগে উঠবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ প্রশাসন চাই। নির্বাচনের দশদিন আগে থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন চাই।

উৎসঃ  mzamin

আরও পড়ুনঃ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও স্কাইপ বন্ধ করেও ঠেকানো গেল না তারেক রহমানকে


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেও ঠেকানো গেল না তারেক রহমানকে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে বিকল্প ব্যবস্থায় অন্য অ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে তারেক রহমান যুক্ত হয়েছেন বলে সাক্ষাৎকার দিয়ে আসা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়।

এর আগে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের জেরে রাতে হঠাৎ বাংলাদেশ স্কাইপ বন্ধ করে দেয়া হয়। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ইন্টারনেটও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলছে। দুপুর আড়াইটার পর কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার হয়েছে।

গত রবিবার (১৮ নভেম্বর) রাজশাহী ও রংপুরে বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু হয়। সেদিন থেকেই স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নানা প্রশ্ন করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রসঙ্গত, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেয়ার বিষয়টি আদালত অবমাননা বলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিত অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ। তবে ইসি এ অভিযোগ নাকচ করে দেন।

নির্বাচন কমিশন তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে সোমবার রাতে বাংলাদেশে স্কাইপ বন্ধ করে দেয়া হয়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন করা হয় বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি ঠেকাতে কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ বিএনপির


কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি ঠেকানো গেলেই বিএনপির বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। তাঁরা দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি ঠেকানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নেতা-কর্মী ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের সময় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন বরিশাল বিভাগের ২১ আসন এবং খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকালও সাক্ষাৎকারে যুক্ত হন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রতিটি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই একসঙ্গে মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকার দেওয়া ১৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। ‍তাঁরা জানান, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল এবং ব্যালটে সিল মারা ঠেকানো গেলে প্রায় সব আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জিতবেন বলে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা মনে করছেন। কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা বলেছেন, খুলনা, বরিশাল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে কারচুপির উৎসব করেছে সরকারি দল। সংসদ নির্বাচনে সে সুযোগ দেওয়া যাবে না। নেতা-কর্মী ও জনগণকে নিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে টিকে থাকতে হবে। মাঠ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

খুলনা-১ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান বলেন, সরকার একতরফা নির্বাচন করে যেন কেন্দ্র দখলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। ভোট কারচুপি ঠেকাতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিতে বলা হয়েছে।

পিরোজপুর-৩ থেকে আসা মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, ‘এবারের ভোটকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। মাঠে থেকে ভোট কারচুপি প্রতিহত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন ভোট নিয়ে অপচেষ্টা না করতে পারে।’

দুপুরের বিরতির আগে বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী জেলার ২১টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষ হয়। বিরতির পর খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলার ৩৬টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়। চলে রাত পর্যন্ত।

মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কেন মনোনয়ন দেওয়া হবে, গত ১২ বছরে প্রার্থীর ভূমিকা এবং তৃণমূলে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু ইত্যাদি বিষয়ে প্রার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে পারবেন কি না, প্রার্থীর অবস্থান কতটা শক্তিশালী—এসব বিষয়েও জানতে চান বোর্ডের সদস্যরা।

ভালো প্রার্থীদের জামিন বিলম্বিত
বিরতির ফাঁকে কার্যালয়ের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সবার জন্য সমান নয়। সরকার এখনো কর্তৃত্ব করছে, নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। বিরোধী দলের কোনো দাবি গ্রাহ্য করেনি। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার পরও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না। কিন্তু গ্রেপ্তার, হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির সম্ভাব্য ভালো প্রার্থীদের মামলায় জামিন না দিয়ে জামিন শুনানিকে বিলম্বিত করে নির্বাচনের পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এটি সরকারের নতুন কৌশল। নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে। সরকার, নির্বাচন কমিশনের গোচরে আনা হলেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে তাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। এই অবস্থায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হবে বলে আমরা মনে করি না।’

খালেদা প্রার্থী হতে পারবেন
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর খুব বেশি কিছু নির্ভর করে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তিনি এখন পর্যন্ত নির্বাচন করার যোগ্য আছেন। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

কোন্দল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় যেন কোনো কোন্দল না হয়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন, দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষে তাঁরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।

পটুয়াখালী-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাউফল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, এই নির্বাচন আন্দোলনের অংশ। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে লড়াইয়ে জেতা যাবে না। কোনোভাবেই যেন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যে ফাটল না ধরে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে চূড়ান্ত আন্দোলনের পথ হিসেবে নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। দলীয় কোনো কোন্দলের শঙ্কা নেই। সবাই দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

কার্যালয়ের বাইরের চিত্র
সাক্ষাৎকারের কারণে গতকালও গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের দুই পাশে ছিল পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী। আগের দিন পথচারীদের ওই সড়কে প্রবেশে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। তবে গতকাল সাধারণ পথচারীদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে। নাম, পরিচয়, কী উদ্দেশ্যে সড়কে প্রবেশ করতে চান, জেনেই সড়কে ঢোকার অনুমতি মিলে। এ ছাড়া ৮৬ নম্বর সড়কে ঢোকার আরেকটি পথ ৯২ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখেও যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

বিএন​পির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিতে তৎপর ছিলেন কার্যালয়ের লোকজন। কিছুক্ষণ পরপর মাইকে নেতা-কর্মীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। একবার মির্জা ফখরুল নিজে মাইকে বলেন, ‘আমি দলের মহাসচিব বলছি, রাস্তা ছেড়ে দিন। মনোনয়নপ্রত্যাশী কেউ নেতা-কর্মী সঙ্গে আনবেন না।’

সূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এবং আগামীকাল বুধবার ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান অর্ধশতাধিক নারী প্রার্থী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে দিনদিন। নির্বাচনেও বাড়ছে নারী প্রার্থীর সংখ্যা। দেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক ও সংসদের স্পিকার হচ্ছেন নারী। সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে এবং সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন বহু নারী। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের টিকিট চাইছেন অর্ধশতাধিক নারীনেত্রী। রাজনীতিতে এদের কারো হাতেখড়ি ছাত্রজীবনে, কারো বা বাবার শূন্য আসন কিংবা প্রয়াত স্বামীর কারণে। উত্তরাধিকারের পরিচয় ছাপিয়ে রাজনীতির মাঠে এখন তাদের সরব বিচরণ। অন্যদিকে ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের প্রতিশ্রুতি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর।

কিন্তু সে কোটা পূরণ হয়নি কোনো দলেই। তবে সাংগঠনিক দক্ষতা, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে এবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চান এসব নারীনেত্রী। দলীয় টিকিট নিশ্চিত করতে তারা নানা পর্যায়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জোরালো লবিং-তদ্বির।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতিবারই একাধিক আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো পরাজয়ের রেকর্ড নেই। তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা হওয়ায় তিনি এখন কারাবন্দি। কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান এসব মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেজন্য উচ্চ আদালতে আইনি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন দলের সিনিয়র আইনজীবী নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে দলের টিকিটে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি ওই আসনে মনোনয়ন চান। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শাহিদা রফিক ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সিলেট-২ আসনে। তবে তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন করেছেন নবম জাতীয় নির্বাচনে।

এবার তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মানিকগঞ্জ ১ ও ৩ আসনে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ফরহাত কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। নেত্রকোনা-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান।

কক্সবাজার-১ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সম্প্রতি তিনি ভারতের আদালতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তবে এখনই তার দেশে ফেরা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন হাসিনা আহমেদ। বান্দরবান আসনের সাবেক মা ম্যা চিং এবারও দলীয় মনোনয়ন চান। ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দুবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের পর দলের সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণে পদপদবি হারিয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিএনপিতে ফিরেছেন সাবেক এই এমপি। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন এই আসনে।

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্বনির্ভর সম্পাদক ও নব্বইয়ের ছাত্র-আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী শিরিন সুলতানা। তবে এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। এই আসন থেকে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও মনোনয়ন চান। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়েছেন দলের প্রয়াত মহাসচিব ওবায়দুর রহমানের মেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ। সেবার মাদারীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি হেলেন জেরিন খান।

জামালপুর-১ আসনে শাহিদা আক্তার রিতা ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও তারা নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। বরিশাল-৫ আসনে সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত নাসিরউদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা-১৪ আসন থেকে প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন ও শহীদ কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী সাবেক কমিশনার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি মনোনয়ন চেয়েছেন। নাটোর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরিন মনোনয়ন ফরম জমা দেন। নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন আরা সিদ্দিকী। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জিতেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। এবারও তিনি জমা দিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন ফরম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নীলফামারী-৪ আসনে দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, নাটোর-৪ আসনে বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান। পঞ্চগড়-২ আসনে প্রয়াত এমপি মোজাহার হোসেনের স্ত্রী নাদিরা আখতার, নাটোর-৪ আসনে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার শিরীন ও চাঁদপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী নাজমুন নাহার বেবি।

এছাড়া সিলেট-১ আসনে ডা. নুরুন্নাহার বেগম, সিলেট-৬ আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, মৌলভীবাজার-৩ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী, বরিশাল-৪ ও ৫ আসনে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল সদর আসনে আফরোজা খানম নাসরিন। ঝালকাঠি-১ আসনে মমতাজ বেগম, ময়মনসিংহ-১১ আসনে সাবেক এমপি নূরজাহান ইয়াছমিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম-২ আসনে নুরে আরা সাফা ও চসিক-এর কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, চট্টগ্রাম-৬ আসনে এডভোকেট ফরিদা আকতার, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বেগম ফাতেমা বাদশা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু, ঢাকা-১৩ আসনে মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, নেত্রকোনা-২ আসনে ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মিনারা বেগম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে প্রফেসর নায়লা আক্তার ও মুসেনা আক্তার, নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর সহধর্মিণী শামীমা বরকত লাকী, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, নাটোর-২ আসনে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, নাটোর-১ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ-২ থেকে সাবেক এমপি আসিফা আশরাফি পাপিয়া, যশোর-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের স্ত্রী তানিয়া রহমান সুমী, নীলফামারী-৪ আসনে বিলকিস ইসলাম ও যশোর-৫ আসনে সাবেক এমপি প্রয়াত আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর স্ত্রী জাহানারা বেগম মনোনয়ন চাইছেন।

এছাড়া নেত্রকোনা-৫ আসনে বেগম রাবেয়া আলী, টাঙ্গাইল-৪ আসনে রাবেয়া সিরাজ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, শরীয়তপুর-৩ আসনে তাহমিনা আওরঙ্গ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, ফেনী-২ আসনে সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু, ফেনী-৩ আসনে শাহানা আক্তার শানু, বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রোকেয়া হলের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা মানী, চাঁদপুর-৪ আসনে সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, ময়মনসিংহ-৩ আসনে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তানজীন চৌধুরী লিলি, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সাবেক এমপি হোসনে আরা গিয়াস, জামালপুর-৫ আসনে সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, হবিগঞ্জ-৪ আসনে সাবেক এমপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাম্মী আক্তার, কুষ্টিয়া-২ আসনে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে ফরিদা মনি, রাজশাহী-৫ আসনে মাহবুবা হাবিবা, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আহমেদ খান, ফরিদপুর-৪ আসনে জাসাস সহ-সভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, গাজীপুর-৩ আসনে ফরিদা ইয়াসমিন স্বপ্না, বাগেরহাট-১ আসনে রুনা গাজী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সাবেক এমপি গোলাম হোসেনের মেয়ে মমতাজ হোসেন লিপি, ময়মনসিংহ-৪ আসনে মহিলা দলের নেত্রী মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা,

শরীয়তপুর-৩ আসনে জেলা মহিলা দল সভানেত্রী আল আসমাউল হোসনা, পাবনা-৩ আসনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা-১ আসন থেকে ১৯৮০ সালে বদরুন্নেসা কলেজে ছাত্রদলের প্যানেলে প্রথম নির্বাচিত ভিপি খায়রুন নাহার খানম নির্বাচন অংশ নিতে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি, মহিলা দলের বেশ কয়েকজন নেত্রী। জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে পঞ্চগড়-২ আসনে মনোনয়ন চান জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিএনপি নেতারা জানান, জাতীয়তাবাদী দল সব সময়ই নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এ অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নারীদের বিষয়ে। এছাড়া তরুণদের পাশাপাশি শিক্ষিত ও মার্জিত নারীনেত্রীদেরও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় দলের নির্বাহী কমিটিতে দুই নেত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয় সাংগঠনিক সম্পাদকের।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি আন্দোলন সংগ্রামে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন নারী নেত্রীরা। নারীনেত্রীদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রেও তাদের মূল্যায়ন করা হবে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ১১ জন নারী ১৩টি আসনে নির্বাচন করেন। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করেন ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে। এছাড়া সাবিনা ইয়াসমিন (নাটোর-২), রুমানা মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২), সেলিমা রহমান (বরিশাল-৩), ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠী-২), শাহিদা আক্তার রিতা (জামালপুর-১), আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-২), শিরীন সুুলতানা (ঢাকা-৯), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), হেলেন জেরিন খান (মাদারীপুর-২) ও হাসিনা আহমেদ (কক্সবাজার-১)।

সুত্রঃ মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here