যারা ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখেন একে পার্টিতে তাদের স্থান নেইঃ এরদোগান

0
24

যারা দলের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেন একে পার্টিতে তাদের স্থান নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এরদোগান। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্লামেন্ট ভবনে দলীয় সংসদ সদস্যদের এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) প্রধান ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মঙ্গলবার তার দলের সদস্যদের আরও সতর্ক করে বলেন, একে পার্টি একটি জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ভিত্তিক দল। ফলে যারা ব্যক্তি স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত তাদের এই দলে কোনো স্থান নেই।

পার্লামেন্ট ভবনে একে পার্টির দলীয় সভায় বক্তৃতাকালে এরদোগান বলেন, রাজনীতির একেকটি স্তর আমাদের জন্য মানুষের সেবা করার একেকটি হাতিয়ার। এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের আগে একে পার্টির স্বার্থ আসবে এবং আগামী ২০১৯ সালের মার্চ মাসের পৌর নির্বাচনের আগেই দলের সকল স্তরের সদস্যদেরকে এই কথা মনের মধ্যে গেঁথে নিতে হবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তুরস্কের দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা শুরু করে দিয়েছে। এটা প্রধান নির্বাচনী জেলাগুলোতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে দলের আভ্যন্তরীণ সদস্যদের প্রতিযোগিতার একটি প্রক্রিয়া।

‘প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া হলো- কে কত ভাল জনগণের সেবা করতে পারবে তার প্রতিযোগিতা। মাঝে মাঝে একের অধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারে। তাদের মধ্যে যাকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হবে, অন্যরা অবশ্যই তাকে সহযোগিতা করবে। প্রার্থীতার মনোনয়ন না পাওয়ায় যারা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি নাখোশ হবে অথবা অন্য উপায় খুঁজবে তারা কখনোই একে পার্টির অনুগত ছিল না বলে ধরে নেয়া হবে’, বলেন এরদোগান।

২৪ জুনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচনে একে পার্টির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এরদোগানের জন্য যে পরিমাণ জনসমর্থন এসেছে তাকে সফলতা হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে একে পার্টির সংসদীয় দৌড়ের জন্য জনসমর্থন প্রত্যাশিত হারের চেয়ে কম ছিল। এরদোগান তখন বলেছিলেন, কম জনসমর্থনের মাধ্যমে ভোটাররা যে বাণী দিয়েছে তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে এবং দল এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে। আর তাই মার্চ ২০১৯ এর নির্বাচনকে বিশেষজ্ঞরা নতুন সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় একে পার্টির সাফল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন।

একে পার্টির সভাপতি বলেন, আমাদের দুর্বল দিকগুলো ঠিক করতে আমরা রাতদিন কাজ করবো। যারা নিয়মনীতির ভেতর থাকবে না তারা সংশোধিত না হলে তাদেরকে ছাটাই করা হবে। ব্যক্তির ভুলের কারণে জনগণের চোখে দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

দলের তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি সামনে এনে এরদোগান বলেন, মেয়র বা সংসদ সদস্যরা যেহেতু তিন বারের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারে না তাই কেউ যদি পুনরায় মনোনায়ন না পায় সে যেন দলের প্রতি ক্ষুব্ধ না হয়।

“দলের কারো ‘আমি’ বলার অধিকার নাই। একে পার্টি হলো ‘আমরা পার্টি’। এ ব্যাপারে কারো যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে তাহলে দল থেকে সতর্ক করার জন্য অপেক্ষা না করে তার উচিত এখনই কেটে পড়া। সংগঠন এবং প্রার্থীদের একে অপরকে দেখা উচিত। আমাদের মাপকাঠি হবে ‘জনগণ আমার সম্পর্কে কী ভাবছে’ তার উপর”, এরদোগান বলেন।

গত বছর একে পার্টি একটি নতুনত্বের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছিল যেখানে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ কিছু প্রধান প্রদেশের মেয়রদেরকে পদত্যাগ করতে বলা হয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় পৌর সমাবেশে নির্বাচিত নতুন মুখদের। এ ব্যাপারে এরদোগান বলেন, তার দলে ক্ষেত্রবিশেষে যে শিথীলতা দেখা গেছে তা দূর করে গতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

সে থেকে দলে এবং সরকারে ব্যাপক রদবদলের মধ্যে দিয়ে গেছে একে পার্টি। ইতোমধ্যে একে পার্টি ডেলিগেটদের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপর একটি বৈদ্যুতিক ভোট জরিপসহ তিন-স্তর বিশিষ্ট নতুন প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চালু করেছে। ডেলিগেটদের দ্বারা পরিচালিত ‘ই-টেন্ডেন্সি’ জরিপটি রবিবার এরদোগানের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এতে একে পার্টির ইস্তাম্বুল শহরের মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় স্পিকার বিনালী ইলদরিম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সলুর নাম জোরালোভাবে শোনা যায়।

৮১ টি প্রদেশের প্রায় ১,২৭,১৪৮ জন ডেলিগেট প্রথমবারের মত অনলাইন জরিপে ভোট প্রদান করে। সকল ডেলিগেটদের প্রায় ৯০.৩৩ শতাংশ এই জরিপে অংশগ্রহণ করে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ডেলিগেট অংশ নেয় ইস্তাম্বুল শহর থেকে। ইস্তাম্বুলের ডেলিগেটদের ৯৮ শতাংশ ভোট দেয়।

আগে ‘টেন্ডেন্সি’ জরিপে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতো। সে তুলনায় ‘ই-টেন্ডেন্সি’ জরিপ মাত্র সাত ঘন্টায় শেষ হয় এবং একই দিনে ফলাফল দলীয় চেয়ারম্যানের নিকট পেশ করা হয়।

টেন্ডেন্সি জরিপের সিস্টেমে একজন ব্যক্তি আরেকজনের বিপরীতে ভোট দিতে পারবে না এবং এতে কোনো প্রকার গোপনীয়তা প্রকাশের সুযোগ নেই। কারণ এটি কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভর না হয়ে জেলাগুলোর জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এর ফলাফল কেবল এরদোগানই দেখতে পারবেন।

জরিপে আঙ্কারার প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মোস্তফা তুনা, একে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান মেহমেত ওজ্জাসেকি এবং আঙ্কারার ডেপুটি এমরুল্লাহ ইসলার এবং ফাতিহ সাহিন এর নাম উঠে এসেছে।

‘দৈনিক সাবাহ’ থেকে ভাষান্তরে: মুহাম্মদ তানজীমুদ্দীন।

আরও পড়ুনঃ খাশোগি হত্যাকাণ্ড: ট্রাম্পের বক্তব্য হাস্যকর মনে করে তুরস্ক


তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একেপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কুরতুলমাস বলেছেন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ‘হাস্যকর’।

বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি হাবিরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। খবর এএফপি’র।

নুমান কুরতুলমাস বলেন, ট্রাম্পের বিবৃতি ছিল হাস্যকর ও কৌতুক। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ওয়াশিংটন সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুরতুলমুস আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যারা সৌদি কনস্যুলেটের বাগানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পাখির পালকের রং সম্পর্কে জানে তাদের পক্ষে এটা জানা অসম্ভব যে কে খাশোগির হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।’ এটা আমেরিকার জনগণ এমনকি গোটা বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করবে না বলেও জানান তিনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে দায়ী করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন।

আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যাই হোক না কেন, আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।

উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন খাশোগি। হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন। সৌদি আরবের সমালোচক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদ প্রথমে অস্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কিছু্ই জানে না। কিন্তু চাপে পড়ে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করে নেন। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here