আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পুলিশের শীর্ষ ৭০ এবং জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

প্রত্যাহার চাওয়া ওই ৯২ কর্মকর্তার একটি তালিকাও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিটি নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে দেয়া হয়। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চিঠিটি ইসি সচিবের কাজে জমা দেন।

চিঠিতে তালিকায় উল্লেখিত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাহারসহ নির্বাচনী সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখারও দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এই তালিকায় রয়েছেন- পুলিশের ডিআইজি, অ্যাডিশনাল আইজি, অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা, এসপি এবং ডিসি। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগও দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট:
এই তালিকায় রয়েছেন এডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, এডিশনাল আইজি (টেলিকম) ইকবাল বাহার, ডিআইজি (নৌ পুলিশ) শেখ মো. মারুফ হাসান, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ মো. কামরুল আহাসান, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ মো. দিদার আহমেদ, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ এম খুরশিদ হোসেন, কমিশনার (ডিআইজি কেএমপি) হুমায়ুন কবির, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কমিশনার (ডিআইজি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ মাহবুবুর রহমান রিপন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি, ঢাকা) মীর রেজাউল আলম, ডিআইজি (সিটি এসবি ঢাকা) মোহাম্মদ আলী মিয়া, ডিআইজি (রংপুর রেঞ্জ) দেবদাস ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি ডিএমপি) কৃঞ্চপদ রায়, ডিআইজি (পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) হাবিবুর রহমান, ডিআইজি (অপারেশন পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পলিশনের কমিশনার হাফিস আক্তার, ডিআইজি (ট্রেনিং) ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অরিরিক্ত কমিশনার (ডিএমপি) আবদুল বাতেন, র‌্যাব-৪ এর এডিশনার ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, যুগ্ম কমিশনার (ডিএমপি) শেখ নাজমুল আলম, এডিশনার ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) একে এম নাহিদুল ইসলাম, এডিশনাল ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) মো. মনিরুজ্জামান, এডিশনার ডিআইজি (সিলেট রেঞ্জ) জয়দেব কুমার ভদ্র, এডিশনাল ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) মো. আসাদুজ্জামান, জয়েন কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম, এসপি মোল্লা নজরুল ইসলাম, এসপি (টুরিস্ট পুলিশ, সিলেট) আলতাফ হোসেন, ডিসি (তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার, ডিসি ডিএমপি হারুন অর রশীদ, ডিসি রমনা মো. মারুফ হোসেন সরকার, ডিসি (সিএমপি) এস এম মেহেদী হাসান, ডিসি (ডিবি, উত্তর) খন্দকার নুরুন নবী, ডিসি (সিএমপি) মো. ফারুকুল হক, ডিসি (কাউন্টার টেররিজম, ডিএমপি) প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি (ডিএমপি) এস এম মুরাদ আলী, এডিসি (ডিএমপি) শিবলী নোমান, এসপি (ঢাকা) শাহ মিজান শফি, এসপি (নায়ারণগঞ্জ) মো. আনিসুর রহমান, এসপি (মুঞ্জিগঞ্জ) মো. জায়েদুল আলম, এসপি (নরসিংদী) মিরাজ, এসপি (টাঙ্গাইল) সনজিত কুমার রায়, এসপি (মাদারীপুর) সুব্রত কুমার হাওলাদার, এসপি (ময়মনসিংহ) শাহ আবিদ হোসেন, এসপি (শেরপুর) আশরাফুল আজিম, এসপি (সিলেট) মো. মনিরুজ্জামান, এসপি (বরিশাল) সাইফুল ইসলাম, এসপি (ভোলা) মোক্তার হোসেন, এসপি (খুলনা) এস এম শফিউল্লাহ, এসপি (সাতক্ষীরা) মো. সাজ্জাদুর রহমান, এসপি (বাগেরহাট) পঙ্কজ চন্দ্র রায়, এসপি (যশোর) মঈনুল হক, এসপি (ঝিনাইদহ) হাসানুজ্জামান, এসপি (কুষ্টিয়া) আরাফাত তানভির, এসপি (চট্টগ্রাম) নূর এ আলম মিনা, এসপি (নোয়াখালী) ইলিয়াস শরীফ, এসপি (ফেনী) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, এসপি (কুমিল্লা) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এসপি (রংপুর) মিজানুর রহমান, এসপি (দিনাজপুর) সৈয়দ আবু সায়েম, এসপি (ঠাকুরগাঁও) মনিরুজ্জামান, এসপি (রাজশাহী) মো. শহিদুল্লাহ, এসপি (চাপাইনবাবগঞ্জ) মোজাহিদুল ইসলাম, এসপি (নওগাঁ) ইকবাল হোসেন, এসপি (নাটোর) সাইফুল্লাহ, এসপি (বগুড়া) আশরাফ আলী, এসপি (সিরাজগঞ্জ) টুকুল চক্রবর্তী ও এসপি (পাবনা) রফিক ইসলাম।

জনপ্রশাসনের যে ২২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট:
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে তাড়াতাড়ি প্রত্যাহার করে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেয়ার দাবি জানায় দলটি। কী কারণে তাদের প্রত্যাহার করা দরকার তাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত ও অতিমাত্রায় প্রচারমুখী। বিসিএস ৮২ বিশেষ ব্যাচের এবং ৮৪ পদের শতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহীউদ্দীনের একান্ত সচিব ছিলেন। মহীউদ্দীনের ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল এখন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সচিবের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্য কর্মকর্তারা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, ভোলার ডিসি মো মাসুদ আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর ফেনীর ডিসি ওয়াহেদুজ্জামান, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কিশোরগঞ্জের ডিসি সারোয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, টাঙ্গাইলের ডিসি মো শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ডিসি সুরজ কুমার নাথ, খুলনার ডিসি হেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসাইন, নড়াইলের ডিসি আঞ্জুমান আরা, ময়মনসিংহের ডিসি ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, জয়পুর হাটের ডিসি মো. জাকির হোসাইন, নওগাঁর ডিসি মিজানুর রহমান, রাজশাহীর ডিসি আবদুল কাদের ও সিলেটের ডিসি কাজী ইমদাদুল হক।

তালিকা জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উনাদের কাছে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে, আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয় চিঠিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সেই দাবিই জানানো হয়েছে।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এব্যাপারে তড়িত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ প্রয়োজনে লাশ হবো, তবুও বিএনপির হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ব!


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ ও ১০ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা রিমান্ড আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

এসময় মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে লাশ হবো, তবুও সব হয়রানি মোকাবেলা করে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে লড়ব।

আজ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৯নং আমলি আদালতের বিচারক গোলাম মাহাবুব খান এ আদেশ দেন।

কারাগারে নিয়ে যাওয়ার আগে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা চাইছেন আমি যেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারি। সেজন্য একের পর এক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে অমানবিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার হাতের হাড় ভেঙে গেছে।আমি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় আক্রান্ত। এভাবে আমাকে মামলায় জড়িয়ে টানাহেঁচড়া করে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি প্রয়োজনে লাশ হবো, তবুও সব ষড়যন্ত্র ও হয়রানি মোকাবেলা করে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে লড়ব।

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পুলিশের দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় মনিরুল হক চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে পুলিশ। ১৪ নভেম্বর আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখান। সেই সঙ্গে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অপর একটি মামলায় পুলিশের রিমান্ড আবেদন ও জামিন নামঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় মনিরুল হক চৌধুরীকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। গাড়ি থেকে নামানোর সময় তাকে খুব অসুস্থ দেখাচ্ছিল। এ সময় পুলিশের কাঁধে ভর করে সিঁড়ি দিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের পাঁচতলায় উঠার সময় চারতলায় গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ওখানেই তাকে টেবিলে শুইয়ে রাখা হয়।

এ সময় মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবীরা ডাক্তার এনে চিকিৎসা দিলে ঘণ্টাখানেক পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন। পরে ৯নং আমলি আদালতের বিচারক ওই ভবনের পাঁচতলা থেকে চারতলায় নেমে ২নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু করেন।

মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুস সা’দাত বলেন, আদালত আমাদের দাখিলকৃত জামিনের আবেদন ও পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এসব মামলার এজাহারে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম নেই। তিনি বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৬ ও ১০ আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে তার পক্ষে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত উচ্চ আদালতে আমরা তার জামিন চাইব।

উৎসঃ ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‘ফেয়ার ইলেকশন না হলে দেশে গণবিষ্ফোরণ শুরু হবে’


চারদিকে নির্বাচনি হাওয়া বইছে। নির্বাচন হচ্ছে। আছে শঙ্কাও। ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘ করতে চাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। প্রধান বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট চাচ্ছে ক্ষমতায় আসতে। এ জন্য প্রর্থী বাছাইয়ে কড়া পর্যেবেক্ষণ চলছে জোট মহাজোট। সব দলের এখন একটাই কথা, ‘জয় এবং জয়’।

আর কাঙ্ক্ষিত এ জয় পেতে রাজনৈতিক দৌড়, জনমত এবং কুটকৈাশল কোনো পন্থাই বাদ দিচ্ছে না দলগুলো। যদিও অনেক পলিটিশিয়ানের মনে গভীর সংসয় নির্বাচনকে ঘিরে। হবে কি হবে না, কেমন হবে, নিরপেক্ষ নাকি ইচ্ছে মতো, নাকি জরুরি অবস্থায়।

এসব বিষয়ে আওয়া ইসলামের সাথে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগন ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম।

বরণ্য এই রাজনীতিবিদের সাথে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক সুফিয়ান ফারাবী।

আওয়ার ইসলাম: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানাজনে নানা উদ্বেগের কথা বলছেন, কেউ বলছেন নির্বাচন হবে না। আবার কেউ কেউ মনে করছেন ২০১৪ এর পুনরাবৃত্তি হবে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: নির্বাচন হওয়া তো সাংবিধানিকভাবে জরুরি। প্রতিটি সরকারকে নির্দিষ্ট সময় শেষে আবারো জনগণের কাছে যেতে হয়। যেটাকে রিনিউয়াল বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে অনেকের মাঝেই এ সংশয় রয়েছে আসলে নির্বাচন হবে কিনা।

এ সন্দেহ থেকে আমিও মুক্ত নই। প্রথম দিকে বিএনপির অংশগ্রহণ ও আওয়ামী লীগের সহনশীলতা দেখে কিছুটা আশা জেগেছিল সবার মনে। কিন্ত দিন যতই যাচ্ছে আবার মনে হচ্ছে সরকার ২০১৪ এর মত এ নির্বাচনকে একতরফা করতে চাচ্ছে।

এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীদের মন থেকে উৎসাহ, উদ্দীপনা নষ্ট করার জন্য পায়তারাও করা হচ্ছে।

আওয়ার ইসলাম: বিএনপির নেতাকর্মীদের মন থেকে উৎসাহ দূর করতে চাচ্ছে কারা কিভাবে, একটা এক্সাম্পল দিলে বুঝতে সহজ হতো।

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: উদাহারণস্বরুপ বলা যায়, বিএনপি নমিনেশন পেপার নিতে গিয়ে যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, তা বন্ধ করতে নয়া পল্টনে হামলা চালানো হলো। যাতে বিএপিকর্মীদের মন থেকে উৎসাহ, আশা মুছে যায়।

আই ডু বিলিভ এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়েছে এবং এ আদেশ সর্বোচ্চ মহল থেকে দেওয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি।

কারণ যদি বিএনপির কর্মীদের মনের বর্তমান অবস্থা বিরাজ থাকে তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকাটা সম্ভব হবে না।

আওয়ার ইসলাম: নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা কেমন হতে পারে বলে মনে করছেন?

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: পুলিশের হেড কোয়ার্টার থেকে নির্বাচনের নীল নকশা হচ্ছে বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির অভিযোগ তুলেছেন। নানান জেলায় ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকার পরিবর্তন এনেছে।

আওয়ার ইসলাম: যদি ফেয়ার নির্বাচন না হয় তবে কী হতে পারে?

ড. আবদুল লতিফ মাসুম : দেশে একটি গণজোয়ার হতে পারে, নানা কারণে মানুষের মনে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আপনি জানেন, যদি দীর্ঘদিন পানি আটকে রাখা হলে হঠাৎ করে সেটা বন্যার মতো বয়ে যায়।

এমনও হতে পারে নির্বাচন হয়ে যাবার পর দু একদিনের মাঝে গণজোয়ার হবে। আর সেটা একপ্রকার বিস্ফরণের আকার ধারণ করতে পারে।

নির্বাচন কমিশন কতটা নিরপেক্ষনীতি অবলম্বন করছে তা নিয়ে আমরা হতাশ। সরকার তো চাইবে সব কিছু নিজের মনের মতো করে সাজাতে, কিন্তু এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে কোনো প্রকার উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে না।

ফর এক্সাম্পল, কোনো দলই ইভিএম চাচ্ছে না, শুধু ইলেকশন কমিশন চাচ্ছে। এর মানে কী?

আওয়ার ইসলাম: শোনা যাচ্ছে বহির্বিশ্ব থেকে এবারের নির্বাচন নিরপেক্ষ করার তাগিদ দিচ্ছে, সরকার যদি ২০১৪ এর মতো নির্বাচন করে তাহলে আন্তর্জাাতিক চাপ আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: আমাদের দেশের মানুষের মনে এই ব্যপারে ভুল ধারণা আছে। তারা মনে করেন আন্তর্জাতিক চাপ অনেক কিছু। আসলে কোন দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে বাইরের দেশ খুব একটা মাথা ঘামান না।

যেমন ছেলেকে বাবা পেটাচ্ছেন, এতে কি পাড়ার মানুষ খুব একটা কথা বলবে? বলবে না। সর্বোচ্চ নিষেধ করতে পারেন। নিজের দেশর বিষয়গুলো নিজেদেরই দেখতে হয়।

উৎসঃ আওয়ার ইসলাম

আরও পড়ুনঃ সরকার ও ইসির বিরুদ্ধে মামলা হবে : আ স ম রব


সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আব্দুর রব।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে আয়োজিত ‘ইভিএমকে না বলুন আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

রব বলেন, ‘আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামালের নেতৃত্বে ইসি ও সরকারের বিরুদ্ধে এ মামলা করব। সংবিধানের কোথাও ইভিএম ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই।’

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২(ক) তে বলা আছে, সংসদ গঠন হবে প্রত্যক্ষ ভোটে। সংবিধানে ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে ‘ডিরেক্ট’ শব্দটি উল্লেখ করা আছে, যার অর্থ প্রত্যক্ষ। ইভিএম প্রত্যক্ষ ভোটের আওতায় পড়ে না। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সংবিধান বিরোধী। তাই সংবিধান সংশোধন ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘ভোট দেয়া থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত সব নির্বাচনী প্রক্রিয়া জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে। জনগণের কাছে এ মেশিনের স্বচ্ছতা নেই।’

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডিবি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলবো, আপনারা নিরপেক্ষ হন। নির্বাচনের পর দেশে আপনারা থাকবেন, আমরাও থাকবো। আপনাদের ভূমিকার জন্য জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’

এর আগে ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানাভাবে ভোট জালিয়াতির কয়েকটি নমুনা দেখান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা মঈন খান, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. জাফরুল্লাহ, আন্দালিব রহমান পার্থ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ প্রায় ৪০ বিশিষ্ট নাগরিক।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ পুলিশের শীর্ষ ৭০ কর্মকর্তার বদলি সহ ১৩টি অভিযোগ জানিয়ে ইসিতে বিএনপি


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য পুলিশের শীর্ষ ৭০ কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনে তাদের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখাও দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জমা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চিঠির সাথে সচিবের কাছে তাদের একটি তালিকাও জমা দিয়েছেন।

জমা দেয়া তালিকায় কে কে আছেন? -সাংবাকিদকরা জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তালিকায় পুলিশ সুপার আছেন, বিশেষ শাখার পুলিশ কর্মকর্তারা আছেন, ডিআইজিরা আছেন, এডিশনাল ডিআইজি কর্মকর্তারা আছেন এবং এআইজি সাহেবরাও আছেন। এ সংখ্যা ষাটের ঊর্ধ্বে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনে সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফিসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব আর না ঘটে, এছাড়া যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ছেলে একজন এমপি প্রার্থী। তিনি বঙ্গভবনে তার এলাকার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন। তাদের আদর আপ্যায়ন করা হয়েছে। যেটি প্রভাব বিস্তারের অন্যতম উদাহরণ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব রির্টানিং কর্মকর্তারা পুলিশ সুপারদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেছেন। গত ১৬ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের বিভাগীয় কমিশনার ও রির্টানিং কর্মকর্তা তার এলাকার অন্য রিটার্নি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি নির্বাচন আচরণি বিধির ৭৩ এর ২বি, ৭৭ এর ১/ই এবং আরপিও-এর লঙ্ঘন। এনটিএমসি ও বিটিআরসির দলকানা কর্মকর্তারা গুলশানে তারেক রহমানের কথোপথন বন্ধ করে রেখেছেন। এখনও সেখানে ইন্টারনেন্ট বন্ধ। এটিও নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গ্রেফতার এখনও চলছে ব্যাপক হারে। গতকাল রাতেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও মনোনয়ন বোর্ডের নেতাও রয়েছেন। পোস্টার বিলবোর্ড সরানোর যে সময়সীমা দেয়া হয়েছিল সে ব্যাপারে এখনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঢাকা শহরে এখনও অসংখ্য নৌকা প্রতীকের বিলবোর্ড-পোস্টার রয়েছে। এমনকি সিটি কর্পোরেশনসহ এ সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের নামে নৌকা প্রতীকের প্রচার করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ বার বার তাদের সাথে যোগযোগ করে জানতে চাচ্ছে কে কোন দল করেন। এ তৎপরতা এখনও গণহারে চলছে।

সিইসি বিশেষ বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হয়রানি না করতে আহ্বান করা হয়েছে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষক করা হলে তিনি বলেন, আমরা দেখছি তিনি (সিইসি) আহ্বান জানিয়েছেন। এটি তো অনুরোধ বা অনুনয়। কিন্তু উনার তো নির্দেশ দেয়ার কথা। উনি নির্দেশনা দেবেন। সেই ক্ষমতা তার রয়েছে। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আমরা চাই।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশঃ ১০ মাসে ৪৩৭ জন হত্যা!


মাদকবিরোধী অভিযানে আরো চারজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত সাড়ে পাঁচ মাসে নিহত হয়েছেন ২৭৬ জন। গত ১০ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে চারশ।

বুধবার ভোরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে আব্দুস শহীদ (৪২) নামে একজন। র‍্যাব দাবি করেছে, সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী। খবর ডয়েচে ভেলের।

প্রায় একই সময়ে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন আবুল হোসেন (৫০) নামে একজন। তিনিও মাদকব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এদিকে টেকনাফে বুধবার ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে নজির আহমদ (৩৮) ও আবদুল আমিন(৩৫)।

পুলিশ দাবি করেছে, কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভে ইয়াবা চালান খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ওই দুই জন নিহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসবে ১৫ মে থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে ২৭৬ জন। আর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মোট ৪৩৭ জন।

২০১৭ সালে ১২ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ১৬২ টি। ২০১৬ সালে ১৯৫, ২০১৫ সালে ১৯২, ২০১৪ সালে ১৫৮ এবং ২০১৩ সালে নিহত হয়েছিলেন ২০৮ জন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটের বছর ২০১৮ সালের ১০ মাসে ২০১৭ সালের ১২ মাসের চেয়ে তিনগুন বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে।

বাংলাদেশে মে মাসে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্ক আছে। ২৬ মে রাতে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার পর এই অভিযান প্রশ্নের মুখে পড়ে। তারপর বেশ কিছুদিন অভিযান থমকে যায়। বিরতি দিয়ে শুরুর পর এখন তা আবার নতুন করে গতি পাচ্ছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রথম মাসেই নিহত হয় ১৩৮ জন আর গ্রেপ্তার হয় ১০ হাজারেরও বেশি। এই অভিযানে গ্রেপ্তারবাণিজ্য এবং টাকা না পেয়ে ‘ক্রসফায়ারের’ অভিযোগও আছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার কর্মীরা অনেক বছর ধরেই এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও শাসকগোষ্ঠী কখনোই আমলে নেয়নি। আর এখন কেউ এর শিকার হলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় মাদকের সঙ্গে জড়িত’।

‘যে-কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থকালেই তো তাকে হত্যা করা যায় না। বিচারে সোপর্দ না করে হত্যা করা সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। শাসকগোষ্ঠী একটা শর্টকাট পথ বেছে নিচ্ছে। আর যারা এই কাজ করছেন, তারাও মনে করছেন সরকার আমাদের ওপর নির্ভরশীল’।

তিনি বলেন, ‘এখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দুটি স্টাইল আমরা খেয়াল করছি। একটা হলো বন্দুকযুদ্ধ এবং আরেকটা হলো লাশ উদ্ধার। লাশ উদ্ধারের সংখ্যা এখন বাড়ছে’।

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নির্বাচনের বছরে একটু হাওয়া বদলের প্রবণতা থাকে। তখন অনেক কিছুই ঢিলেঢালা হয়ে যায়। এর সুযোগ নেয় অনেকেই। ফলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও বেড়ে যায়’।

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘এ বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার দুটি কারণ আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে৷ মে মাস থেকে শুরু হওয়া চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে এরই মধ্যে দুশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর এটা নির্বাচনের বছর৷ আমরা অতীতে দেখেছি, নির্বাচনসহ বিশেষ বিশেষ সময়ে ক্রসফায়ার, বন্দুযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়’।

মাদকবিরোধী অভিযানের পরও মাদকের ব্যবসা এবং মাদক ব্যাহারকারী কমছে না। নতুন মাদকবিরোধী আইন সংসদে পাশ হয়েছে। তাতেও কোনো ফল এখানো দেখা যাচ্ছে না। তারপরও কেন এই অভিযান? কেন এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড? নূর খান মনে করেন, ‘যে-কেনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে একটা সাময়িক উপশম পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। আসলে তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না। আরেকটি হলো নির্বাচনের আগে একটা ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে প্রতিবাদী মানুষও কথা বলতে সাহস না পায়’।

সুত্রঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ইয়াবা খেয়ে ধরা পড়েও মুক্ত মহিলা আওয়ামীলীগের এমপিপুত্র রুমন


আবারও মায়ের ক্ষমতা জোরে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছেন মাদকসেবী রাশেদ সরোয়ার রুমন। সংরক্ষিত নারী আসনের সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য রিফাত আমিনের ছেলে রুমন ইয়াবা খাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। কিন্তু মায়ের প্রভাবে তিনি ছাড়া পেলেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সহযোগী নিয়ে শহরতলির নবাদকাটির মিঠু খানের বাগানবাড়ি বসে রুমন ইয়াবা খেয়ে ফুর্তি করার সময় ধরা পড়েন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ রুমনকে বেসামাল অবস্থায় আটক করে।

মাদকাসক্ত পাঁচ যুবকসহ তাকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সংসদ সদস্য রিফাত আমিনের সুপারিশে গভীর রাতে পুলিশ রুমন ও তার সহযোগীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে পুলিশ বলেছে, রুমনকে গ্রেফতার করার মতো আইনগত ভিত্তি ছিল না।

জানা গেছে, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন থাকার পর রুমন দেশে ফিরে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালের পর তার দাপট আরও বেড়ে যায়। ২০১৬ সালের ১৯ মে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ি চালিয়ে রুমন শ্যামনগরের বরসা রিসোর্টে যান।

সেখানে রাতে তিন তরুণীকে নিয়ে তিনি বেসামাল হয়ে পড়েন। এজন্য তাকে কয়েকদিনের জন্য কারাবাস ভোগ করতে হয়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছে রুমন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরে তাকে ভোমরায় নিয়ে তিনি ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। একই বছরের ৭ জুলাই সহযোগী গোল্ড মিলনের সঙ্গে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী সাহেব আলিকে মারধর ও জিম্মি করে রুমন নগদ টাকা ও চেক কেড়ে নেয়।

১৩ আগস্ট রুমন তার মাদকাসক্ত স্ত্রী টুম্পাকে এক যুবকের পাশে বসিয়ে ছবি তুলে ব্ল্যাক মেইলিং করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর জেলা যুবলীগ নেতা জুলফিকার আলি উজ্জ্বলকে রুমন রড দিয়ে মারধর করে আহত করে। সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর রাতে ইয়াবা সেবন অবস্থায় ধরা খেয়েও মায়ের ক্ষমতার জোরে বেরিয়ে গেলেন রুমন।

উৎসঃ jugantor

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here