প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে সরকার!

0
68
শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন

ঢাকা: ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভয়াবহতায় আগামীতে এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার’।

সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন একথা জানান।

এর আগে তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কোনো পরীক্ষার্থী যদি কেন্দ্রে প্রবেশ না করে তবে তাকে আর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে গত রবিবার এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি), সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত ৩০০ মোবাইল ফোন নম্বর চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এমন কি এসব মোবাইল নম্বরের মালিকদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এই কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩০০ টেলিফোন নম্বর চিহ্নিত করে ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এই নম্বরধারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। তবে এর মধ্যে অভিভাবকরাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, মিডিয়ায় যে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ এসেছে সেগুলো দেখে পর্যালোচনা করবে কমিটি। এছাড়া আরো পর্যালোচনা করে দেখা হবে যে, আসলেই ফাঁস হয়েছে কি না, কতক্ষণ আগে ফাঁস হয়েছে, তার প্রভাবটা কী, কতজন ছাত্র-ছাত্রী এটির মধ্য দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে, পরীক্ষা বাতিল করা হবে কি না, বাতিল করা হলে কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে যে, প্রশ্ন পেয়েছে ৫/১০ মিনিট আগে। ওই প্রশ্ন পেয়ে তো বেশি প্রভাবের সুযোগ নাই। আবার দেখা গেছে বেশ আগে ফাঁস হলেও ৫ বা ১০ হাজার ছেলে-মেয়ে পেয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা দিয়েছে ২০ লাখ। এমন বিষয়গুলো হিসাব-নিকাশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

সচিব জানান, যে ৩০০ মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মালিককে ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। ইতিমধ্যে ১৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরো গ্রেপ্তার করা হবে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা আইন এবং সাইবার অপরাধের আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতে যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তারা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে সেখান থেকে তাদের বহিস্কার করা হতে পারে।

-আরটিএনএন

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ তুলে দেয়া হবে: শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী

ঢাকা: প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি এই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এমসিকিউ প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে। তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ থাকবে না।’

চলতি এসএসসিতে এই পর্যন্ত সবগুলো বিষয়েরই এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।

১৯৯২ সালে এসএসসিতে প্রবর্তনের সময় ৫০ নম্বরের পরীক্ষা এমসিকিউতে নেওয়া হত। পরে তা কমিয়ে আনা হয়।

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে এর আগে শিক্ষা সচিবও মত জানিয়েছিলেন।

গত বছরজুড়ে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের পর এবার এসএসসিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণার পরও চলছে একই ধারা।

এক মাস আগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা কাজী কেরামত বলেন, ‘একটি চক্র প্রশ্ন ফাঁস করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলার পর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চরম ব্যর্থতা বলব না। মনে হয় সাহসী সৎ নিষ্ঠাবান লোক সেখানে নেই।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ড দুর্নীতির আখড়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সৎ নিষ্ঠাবান লোক খুঁজে বের করে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কোচিং ব্যবস্থাও দায়ী। এটা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।’

এর আগে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভয়াবহতায় আগামীতে এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার’।

সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন একথা জানান।

এর আগে তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কোনো পরীক্ষার্থী যদি কেন্দ্রে প্রবেশ না করে তবে তাকে আর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে গত রবিবার এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি), সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত ৩০০ মোবাইল ফোন নম্বর চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এমন কি এসব মোবাইল নম্বরের মালিকদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এই কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩০০ টেলিফোন নম্বর চিহ্নিত করে ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এই নম্বরধারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। তবে এর মধ্যে অভিভাবকরাও রয়েছেন।

-আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here