বাংলাদেশে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে চার দেশ

0
52

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় অবস্থিত সে দেশগুলোর নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে।

ওই চারটি দেশের ঢাকায় নিযুক্ত দূতাবাস ও হাই-কমিশনের ওয়েবসাইটে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই সতর্ক বার্তায় আরো বলা হয়েছে, জনসমাগম এড়িয়ে তারা যেন চলাচল করেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতি খেয়াল রাখেন।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ হওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

-কালের কন্ঠ

ভিডিওঃ রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলনে কি বলেছিলেন খালেদা জিয়া?

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে ▷ বাটনে বা ভিডিওর শিরোনামে ক্লিক করুন]

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানকে আটক

রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলানিউজকে জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজীব এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।

দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর বিকেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারপরই রাজীবকে আটক করা হয়।

এই রায় শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা পূরণের রায়ঃ রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসা পূরণের রায়। এই রায় একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির এ কথা বলেন। তিনি এই রায়কে ধিক্কার ও ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে ভয়ংকরভাবে পর্যুদস্ত করতে এই সরকার এবং এই সরকারের মুরব্বিরা পরিকল্পনা করে আসছেন। কেননা খালেদা থাকলে সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র থাকবে। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তিকে খুশি করতে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

রিজভী দলের নেতা–কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করুন, নিজেরা বুলেট বরণ করুন কিন্তু শান্তি বজায় রেখে রাস্তায় নামুন।

-বাংলা বার্তা

সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে শাস্তি দেওয়া হয়েছেঃ মির্জা ফখরুল

‘সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে বেগম খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ বাকী আসামীদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

-আরটিএনএন

বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শিমুল বিশ্বাসকে আটক করা হয়।

শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ২০টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এই রায়কে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে পুলিশের ধরপাকড়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারের বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে এই রায় দেয়। মামলায় তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামীদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুর ২টা ১৪ মিনিটের দিকে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারক বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন তিনি। এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালত চত্বরে পৌঁছান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরই মধ্যে রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তার দলের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে অনেককে।

এর আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মগবাজার এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মী সেখানে যুক্ত হন। এ সময় রাস্তার পাশেও অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে সেখানে যুক্ত হন। তারা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়ে এগোতে থাকেন।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনতিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফলে দেশবাসীর আগ্রহ অন্যরকম। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই টানটান উত্তেজনা জনমনে ছড়িয়ে পড়ে। রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির মাঠে রায় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনও।

দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

বিএনপির অভিযোগ এই রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল শুরু করেন।

-আরটিএনএন

ভিডিওঃ রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলনে কি বলেছিলেন খালেদা জিয়া?

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে ▷ বাটনে বা ভিডিওর শিরোনামে ক্লিক করুন]

Facebook Comments

comments

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here